সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন সমস্ত মাখলুকাত। আর তিনি মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছেন ইমান ও শরিয়তের বিধানাবলি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সর্দার, আমাদের নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি সর্বশেষ নবী। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর, তাঁর মহান ও সৎ কর্মশীল পরিবারবর্গ ও সাহাবিগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
Advertisement
আম্মা বা’দ
আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার সর্বপ্রথম ফরজ বিধান হলো ইমান। আর যার মধ্যে ইমান নেই, তার সমস্ত আমল মরুভূমির মরীচিকার মতো নিষ্ফল। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে ইরশাদ করেছেন, ‘যারা কুফরি করেছে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকার মতো, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে। কিন্তু সে যখন তার কাছে যায়, তখন সেখানে কিছুই পায় না। বরং সে সেখানে আল্লাহকে পায়, যিনি তার হিসাব পূর্ণাঙ্গভাবে চুকিয়ে দেন। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’
একজন ইমানদার যে বিষয়গুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তার অনেক কিছু মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান, বুদ্ধি ও দৃষ্টিসীমার বাইরে অবস্থান করে। মানুষ পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে তা ধরতে পারে না। ইমানদার বান্দা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব না করেও বিশ্বাস করে—এটাই ইমান। আল্লাহ তাআলা ইমানের মাহাত্ম বর্ণানায় সুরা বাকারার শুরুতে ইরশাদ করেছেন, ‘যাঁরা অদৃশ্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে...।’
Advertisement
কোরআন ও হাদিসে এমন বহু বিষয় রয়েছে যা মানুষের সীমিত চিন্তাশক্তি দিয়ে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের ওপর আসমান ও জমিনের বরকতের দরজাগুলো খুলে দিতাম।’
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হ্যাঁ, তোমরা যদি ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর শত্রুরা এখনই তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের রব চিহ্নিত পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।’
হুনাইনের যুদ্ধের প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ভেবেছিলে কম সংখ্যার কারণে আজ পরাজিত হবে না। কিন্তু হুনাইনের দিনে তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বিশাল হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তোমরা পিঠ দেখিয়ে পালিয়েছিলে।’
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান সে-ই, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার।’
Advertisement
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেই ধনী হওয়া যায় না, বরং অন্তরের সন্তুষ্টিই হলো প্রকৃত ধনঢ্যতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুদ্ধিমান সে-ই, যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। আর নির্বোধ সে-ই, যে কুপ্রবৃত্তির পেছনে ছোটে অথচ আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও জান্নাতের আশা করে।’
অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কুস্তিতে কাউকে আছাড় দেওয়া প্রকৃত বীরত্ব নয়; রাগের মাথায় নিজেকে সামলে রাখতে পারাই হলো সত্যিকারের বীরত্ব।’
সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো কোরআন ও হাদিসে যা কিছু এসেছে তার ওপর নিঃসংশয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা আমাদের সীমিত বুদ্ধি তা পুরোপুরি ধরতে পারুক বা না পারুক।
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর ওপর, তাঁর রাসুলের ওপর এবং সেই কিতাবের ওপর যা তিনি তাঁর রাসুলের ওপর নাজিল করেছেন, আর পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবগুলোর ওপর। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং আখেরাতের দিনের ব্যাপারে কুফরি করবে, সে চরম পথভ্রষ্টতায় পতিত হলো।’
আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য কোরআনে বরকত দান করুন। এর আয়াত ও হেকমতপূর্ণ উপদেশ দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, সম্মানিত, পরম দাতা ও অতি মেহেরবান।
ওএফএফ