২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় সেলেসাওদের। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর এবার সেই হারের জন্য নিজের কৌশলগত ভুলকেই দায়ী করলেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
Advertisement
ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইতালিয়ান এই কোচ স্বীকার করেছেন, দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতির সময় নেওয়া সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নরওয়ের বিপক্ষে হাইড্রেশন বিরতির সময়ই আমরা বিশ্বকাপটা হারিয়েছি। কারণ, ওই সময় পর্যন্ত ম্যাচ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভুল ছিল সম্ভবত এটা ভাবা যে দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে, যদিও বাস্তবে তা হয়নি। আমি তখন কয়েকটি পরিবর্তন করি। এরপরই আরলিং হালান্ড গোল করে বসে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে গোল হজম করলে ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন।’
Advertisement
হাইড্রেশন বিরতিই কি বদলে দিল ম্যাচ?
এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি অর্ধের মাঝামাঝি বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি চালু করে ফিফা। প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়রা পানি পান করার পাশাপাশি কোচরাও মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে নতুন কৌশল নিয়ে নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ পান।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা ছিল। কিন্তু বিরতির পর ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। শেষ দিকে জোড়া গোল করেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ দিলেও ব্রাজিলকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়।
সুযোগ নষ্টের মূল্যও দিয়েছে ব্রাজিল
Advertisement
আনচেলত্তি অবশ্য শুধু নিজের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেননি। তিনি মনে করেন, ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারাও বড় কারণ ছিল।
প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া পেনাল্টি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক একান্ত সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। সেই ব্যর্থতারই শেষ পর্যন্ত বড় মূল্য দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
প্রতিপক্ষ নরওয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আনচেলত্তি। তার মতে, নরওয়ে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই নিজেদের ফুটবল দর্শনে অটল ছিল। তিনি বলেন, ‘নরওয়ে নিজেদের অর্ধে অনেক ভালোভাবে বলের দখল ধরে রেখেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা একইভাবে খেলেছে। তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং চাইলে সেই ম্যাচটিও জিততে পারত।’
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। তবে শেষ আটে ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে তাদের স্বপ্ন থেমে যায়।
বিশ্বকাপ চলাকালীন ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার বলেছিলেন, হাইড্রেশন বিরতি খেলায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি এবং ম্যাচের ফলও বদলায়নি।
তবে আনচেলত্তির মন্তব্য সেই দাবির সঙ্গে একেবারেই ভিন্ন। তার বিশ্বাস, অন্তত ব্রাজিলের ক্ষেত্রে ওই বিরতির সময় নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্তই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আইএইচএস/