আপনার সহকর্মী এসে ডেস্কের পাশে দাঁড়ালেন, ‘শোনো, দুপুর ২টার মিটিংয়ের আগে প্রেজেন্টেশনটা একটু দেখে দাও তো? বেশি সময় লাগবে না।’ আপনি জানেন, আপনার হাতে এমনিতেই অনেক কাজ। এটাও জানেন, এই ‘একটু দেখ’ আধা ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়ে নেবে। তবু চিন্তা করার আগেই মুখ থেকে বেরিয়ে যায়, ‘হ্যাঁ, দেখছি।’
Advertisement
শুনতে এটা ভালো মানুষের কাজ মনে হয়। মনে হয়, সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলাই বুঝি দলের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু আসলে এর মানে হলো, নিজের কাজের গুরুত্বের ওপর নিজেরই যথেষ্ট ভরসা নেই। তাই কোনো অনুরোধকেই ‘না’ বলতে পারছেন না।
এর পেছনে একটা সাধারণ ভয় কাজ করে–‘না’ বললে হয়তো আপনাকে অলস, দায়িত্বহীন বা দলের খারাপ সদস্য মনে করা হবে। তাই বাড়তি কাজ কাঁধে নেন, দেরি করে অফিসে থাকেন, আর ধীরে ধীরে দেখেন নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোই সবার আগে পিছিয়ে পড়ছে। কেউ শুরুতে বলে দেয় না–বুদ্ধি করে ‘না’ বলতে শেখাটাই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দামি দক্ষতাগুলোর একটি।
যত দক্ষ তত বোঝাএই সমস্যা প্রায় সবার। কাজে ভালো হলে মানুষ বেশি বেশি আপনার কাছে আসে। আপনি সাহায্য করতে, নিজেকে দেখাতে বা অনুরোধটা ছোট মনে হওয়ায় ‘হ্যাঁ’ বলেন। একদিন হঠাৎ দেখেন, আপনার ক্যালেন্ডার ভরে গেছে অন্যদের কাজে। যারা নিয়মিত অন্যের কাজ নিজের কাঁধে নেন; তাদের নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যই সময় কমে যায়। অন্যকে সাহায্য করা ভালো, কিন্তু এটা অভ্যাসে পরিণত হলে ক্ষতি হয় নিজের কাজেরই।
Advertisement
দক্ষ কর্মীরা এই ফাঁদে বেশি পড়েন, কারণ তারা ‘দরকারি’ হয়ে ওঠাটা উপভোগ করেন। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সাহায্য করা আর ইচ্ছার ব্যাপার থাকে না। বরং অভ্যাসে পরিণত হয়।
সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে যেভাবে ‘না’ বলবেনলক্ষ্য বেশি বেশি ‘না’ বলা নয়। লক্ষ্য হলো, বুঝেশুনে ‘হ্যাঁ’ বলা। প্রতিটি অনুরোধেই একটু ভাবা দরকার। চোখ বুজে ‘হ্যাঁ’ বলার দরকার নেই। এখানে চারটা সহজ উপায় দেওয়া হলো।
প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সময় নিনসবচেয়ে সহজ ভুল হলো সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলা। কেউ কাজ দিতে চাইলে তাড়াহুড়ো করে রাজি হবেন না। বলুন, ‘হাতে কী কী কাজ আছে দেখে আজকের মধ্যেই জানাচ্ছি।’ এতে সামনের মানুষের চাপে না পড়ে, আসল অনুরোধটা বোঝার সময় পাবেন। এই ছোট্ট বিরতিটাই অনেক পার্থক্য গড়ে দেয়।
বিনিময়ের প্রস্তাব দিনকেউ এমন কিছুতে যোগ দিতে বললে, যেখানে সময় দেওয়ার সুযোগ নেই, সরাসরি ‘না’ বলা কঠিন। এর বদলে বলুন, ‘এখনকার কাজ থেকে কিছু না সরালে এটা নিতে পারব না। চলুন ঠিক করি, কোনটা এখন কম জরুরি।’ এভাবে কথাটা আর আপনি রাজি কি না তা নিয়ে থাকে না। বরং অগ্রাধিকার ঠিক করার আলোচনায় বদলে যায়, যা দুজনের জন্যই সহজ।
Advertisement
অনেকেই বোঝেন না, আপনাকে দিয়ে একটা কাজ করাতে গিয়ে আপনি আসলে কী ছাড়ছেন। তাই সেটা খুলে বলাই ভালো। বলুন, ‘এটা করে দিতে পারি, তবে রিপোর্টটা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পিছিয়ে যাবে। ঠিক আছে?’ এতে আপনি না করছেন না বরং বিনিময়টা স্পষ্ট করছেন। আর অন্যজনকে ভাবার সুযোগ দিচ্ছেন।
সাড়া দেওয়ার আগে যাচাই করুনসব অনুরোধ সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই উত্তর দেওয়ার আগে একটু থামুন। বসের নির্দেশ আর দলের অন্য কারো অনুরোধ এক নয়। একবারের উপকার আর ভবিষ্যতে বড় হয়ে ওঠা দায়িত্ব–এই দুটোও এক নয়।
‘হ্যাঁ’ বলার আগে নিজেকে এই চারটা প্রশ্ন করুন:
এটা কি আমার মূল কাজের সঙ্গে যায়? এতে কি আমার উন্নতি বা পরিচিতি বাড়বে? এটা কি একবারের ব্যাপার, নাকি ভবিষ্যতে বড় হয়ে যাবে? ‘হ্যাঁ’ বললে, কোন জরুরি কাজে ‘না’ বলতে হবে? প্রতিটি ‘হ্যাঁ’ একটা বার্তাসবচেয়ে ভালো সুনাম তাদেরই হয়, যাদের ‘হ্যাঁ’ মানে কিছু একটা বহন করে। কারণ তারা যা বলেন, তা করে দেখান। আপনি যতবার ‘হ্যাঁ’ বলেন, ততবার মানুষকে শেখাচ্ছেন আপনার কাছ থেকে কী আশা করা যায়। সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বললে আপনি হয়ে উঠবেন ‘সব সময় হাতের কাছে পাওয়া যায়’ এমন একজন। আর বেছে বেছে ‘হ্যাঁ’ বললে, আপনি হয়ে উঠবেন এমন একজন, যিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভালো ফল দেন।
সূত্র: ফোর্বস।
আরও পড়ুন বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ লিখবেন যেভাবেএসইউ