বিশ্বব্যাপী নানা সংঘাতের মধ্য অন্যতম একটি ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই বৈঠকের পর নতুন মাত্রা পেয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে বেশকিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ইউক্রেন। এর মধ্যে রয়েছে-লুহানস্ক, দোনেৎস্ক ও ঝাপোরঝিয়া। মূলত ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে ইউক্রেনে সামরিক হামলা শুরু করে রাশিয়া।
Advertisement
১) স্ট্রারলিংক
রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলায় স্টারলিংক ব্যবহার করতে চায় ইউক্রেন। এ জন্য, ইলন মাস্ককে রাজি করাতে ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
দ্য আটলান্টিক-এর প্রতিবেদনে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জেলেনস্কি যুক্তি দেন, স্টারলিংকের বিস্তৃত ব্যবহার নিশ্চিত হলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী মোবাইল লঞ্চারগুলোকে আরও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারবে ইউক্রেন। এতে ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে পড়া প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরতাও কমবে।
Advertisement
বর্তমানে কেবল ইউক্রেনের ভূখণ্ডে স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমতি দেয় স্পেসএক্স। তবে, এর মধ্যে রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়াও রয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডের ভেতরে স্টারলিংক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলেনস্কির এ অনুরোধ বিবেচনার আশ্বাস দিলেও কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় জেলেনস্কি ইলন মাস্কের সঙ্গেও বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। তবে, মাস্ক সেই সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
২) প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর
ইউক্রেন ওয়াশিংটনের কাছে ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর চেয়েছে। তবে, ট্রাম্প প্রশাসন এর পরিবর্তে ইউক্রেনকে নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
Advertisement
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেনিস শটিলারম্যান দ্য আটলান্টিককে বলেন, স্টারলিংক-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় ইন্টারসেপ্টরের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। তার ভাষায়, তীর ভূপাতিত করার বদলে আমরা তীরন্দাজকেই আঘাত করব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি ইলন মাস্ক স্টারলিংকের অনুমতি না দেন, তাহলে স্পেসএক্সের সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’ (Starshield) ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছে ইউক্রেন। তবে, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, স্টারশিল্ড তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং বিদ্যমান ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গে এটি সমন্বয় করা আরও কঠিন হবে।
বৈঠকের পর যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা
রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চালানো হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে যুদ্ধ ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলের দুটি জেলায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একটি বাড়ি, কয়েকটি যানবাহন ও একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রাম বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইউক্রেনিফর্ম। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, হামলার সময় কিয়েভ অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং আকাশে থাকা রুশ ড্রোনগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। ব্রোভারি জেলায় রুশ হামলায় একটি ব্যক্তিগত আবাসিক বাড়ি, দুটি গাড়ি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কিয়েভ, লভিভ, দনিপ্রোপেত্রোভস্কসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা এবং তিনটি মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও পোলতাভা অঞ্চলে দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে একটি আবাসিক বাসভবনে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ছয়জন নিহত এবং আটজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
রুশ নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত, ইউক্রেনের এফ-১৬ বিধ্বস্ত
ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ড দাবি করেছে, ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় একটি রুশ ZALA Z-20 নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনের লাসারের ড্রোন ইউনিট জানিয়েছে, এটি তাদের অন্যতম সর্বোচ্চ উচ্চতায় সফল ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা। ২৯ জুলাই ফেসবুকে এক পোস্টে অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেন ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার ওলেক্সান্দর পিভনেঙ্কো।
পিভনেঙ্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে দক্ষিণ ইউক্রেনের আকাশে রুশ ZALA Z-20 ড্রোনটি শনাক্ত করে তাদের ইন্টারসেপ্টর দল। নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তের জন্য তৈরি এই ড্রোনটি ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম।
তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আক্রমণ এড়াতে রুশ ড্রোনটি ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে যায়। তবে, সেটিও তাদের অভিযান ঠেকাতে পারেনি। আমাদের পাইলট লক্ষ্যবস্তুর পিছু নিয়ে সেটিকে সফলভাবে ধ্বংস করেছেন। এ অভিযান ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের উচ্চ প্রশিক্ষণ, আধুনিক ড্রোন ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও সফলভাবে যুদ্ধ মিশন সম্পন্ন করার সক্ষমতার প্রমাণ।
এদিকে, ফ্রন্টলাইন অভিযানের সময় ইউক্রেনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে, বিমানের পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট (জরুরি বহির্গমন) করতে সক্ষম হন এবং পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রুশ আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যুদ্ধবিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর সেটি বিধ্বস্ত হয়। তবে, গাইডেট মিসাইল হামলার কারণে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর কাছ থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পেয়েছে ইউক্রেন। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক উল্লেখযোগ্য।
ন্যাটোর আকাশসীমায় রুশ খ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পোল্যান্ডের এফ-১৬ মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে পোল্যান্ড সফরে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউরো নিউজ ও এএফপি। সফর শেষে ইউক্রেনে ফিরে জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন বা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পোল্যান্ডে থাকা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্ট ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন রণকৌশল নিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত লভিভ শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কথা জানিয়েছে পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী।
রাশিয়ার সাম্প্রতিক বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বস্তুটি ছিল রাশিয়ার খ-১০১ (Kh-101) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলে পোল্যান্ড নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরএমএফ এফএম (RMF FM)-এর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পোল্যান্ডের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেজারি তোমচিক বলেন, অপারেশনাল কমান্ডার জেনারেল মাচেই নোভাকের সঙ্গে পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত যে, এটি একটি রুশ খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যা মাটিতে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও বলেছিলেন, সব ধরনের প্রমাণই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাশিয়ার ইউক্রেনে সর্বশেষ বৃহৎ হামলার সময় একটি খ-১০১ ক্ষেপণাস্ত্র অল্প সময়ের জন্য পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল।
তোমচিক জানান, ওই রাতের হামলায় রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। রাত ৩টার দিকে প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের দিকেই উড়ে আসছিল। তবে, সেগুলো পোল্যান্ডে পৌঁছানোর আগেই ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সব সম্ভাবনাই এখনো খোলা রয়েছে এবং মস্কোর উদ্দেশ্য নির্ধারণে গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রয়োজন।
রাতভর ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পোল্যান্ড তাৎক্ষণিকভাবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। পোলিশ সামরিক বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করা হয়। সেটিকে প্রতিহত করতে একটি এফ-১৬ পাঠানো হলেও ছয় মিনিট পর রাডারে বস্তুটির অবস্থান হারিয়ে যায়। পরে পূর্ব পোল্যান্ডের তারনাভা-কলোনিয়া এলাকার কাছে সম্ভাব্য বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান চিহ্নিত করা হয়।
কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্ত হামলা
রাশিয়ার একটি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আন্দ্রেই চেরেজভ বুধবার ভোরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রুশ প্রসিকিউটররা ঘটনাটিকে ‘হত্যাচেষ্টার ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চেরেজভ রাশিয়ান এয়ার ট্রান্সপোর্ট ল্যাবরেটরির প্রধান। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ‘ওভোদ’ (Ovod) নামে পরিচিত যুদ্ধ ড্রোনের একটি সিরিজ তৈরি করেছে।
রুশ সংবাদপত্র ইজভেস্তিয়ার খবরে বলা হয়, মস্কো থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে তুলা শহরে বুধবার (২৯ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত এক হামলাকারীর গুলিতে তিনি আহত হন। তবে, হামলার পেছনে কারা জড়িত বা এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ক্রিমিয়া, তামান বন্দর ও লুকঅয়েলে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা
সাম্প্রতিক রুশ হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত রাতে ইউক্রেনের ২৫৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া অঞ্চলে হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। দেশটির ড্রোন হামলার কারণে ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইউক্রেনের মানববিহীন সিস্টেম বাহিনী (Unmanned Systems Forces) দাবি করেছে, রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ায় মানববিহীন নৌযান (Unmanned Surface Vehicle-USV) পরিচালনার একটি ঘাঁটি, পাঁচটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দোনেৎস্ক বিমানবন্দরে শাহেদ ধরনের ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি আজভ ও কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর আরও চারটি তেলবাহী জাহাজে সফল হামলার দাবি করে ইউএসএফ।
এর আগে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তর (HUR) দাবি করে, অস্থায়ীভাবে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় একটি ‘মুরমানস্ক-বিএন’ (Murmansk-BN) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ (Electronic Warfare-EW) ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৬ থেকে ২৭ জুলাই রাতের মধ্যে ক্রিমিয়ার কেপ ফিওলেন্ট এলাকার কাছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মানববিহীন সিস্টেম বিভাগের সদস্যরা রুশ বাহিনীর ‘মুরমানস্ক-বিএন’ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থাটি শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেন।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (SBU) দাবি করেছে, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে তারা রাশিয়ার সামরিক, জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক সফল হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অধিকৃত ক্রিমিয়ার একটি বিমান কারখানা, রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের তামান বন্দর এবং ভলগোগ্রাদের একটি বড় তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এসবিএইউ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ার ইয়েভপাটোরিয়া শহরে অবস্থিত ইয়েভপাটোরিয়া এয়ারক্রাফট প্ল্যান্টে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমান সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত দুটি হ্যাঙ্গার এবং একটি উৎপাদন কর্মশালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের তামান বন্দরের অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
এসবের পাশাপাশি, রাশিয়ার ভলগোগ্রাদে ওয়াইল্ডবেরিজ লজিস্টিকস কেন্দ্রে এবং দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার লুকঅয়েল-ভলগোগ্রাদনেফতেপেরেরাবোটকা (Lukoil-Volgogradneftepererabotka) রিফাইনারিতেও সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে এসবিইউ। বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা সম্পন্ন এ স্থাপনায় পেট্রোল, ডিজেল ও জেট জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।
এসবিইউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক-শিল্প অবকাঠামোর প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, প্রতিটি জ্বলতে থাকা তেল শোধনাগার বা বন্দর রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে দুর্বল করার আরেকটি ধাপ। শত্রুর সামরিক সক্ষমতা ক্ষুণ্ন করতে আমাদের এ ধরনের পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে, ইউক্রেনের এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাইও সম্ভব হয়নি।
কেএম