কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর দাসিয়ারছড়া ছিটমহল বিনিময়ের ১১ বছর পেরিয়ে ১২ বছরে পা দিয়েছে। এক সময়ের অবহেলিত এ জনপদে গত এক দশকে শিক্ষা, সড়ক, বিদ্যুৎ, কৃষি ও সরকারি সেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। তবে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতার মধ্যেও দাসিয়ারছড়াবাসীর প্রধান দাবি এলাকাটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ঘোষণা করা।
Advertisement
জানা গেছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে দাসিয়ারছড়া ছিল সবচেয়ে বড়। এক হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর আয়তনের এ ছিটমহল বিনিময়ের পর ছয় হাজার ৫২৯ জন বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে এলাকাটি ফুলবাড়ী, কাশিপুর ও ভাঙামোড় এই তিন ইউনিয়নের মধ্যে বিভক্ত থাকায় স্থানীয়দের প্রশাসনিক সেবা পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
দাসিয়ারছড়ার সমন্বয়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম বলেন, আগে শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপন করে অন্য এলাকায় ভর্তি হতে হতো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হয়েছে।
খড়িয়াটারী গ্রামের ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর সরকারি অনুমোদন নিয়ে সার ও বীজের ব্যবসা শুরু করেছেন। এতে স্থানীয় কৃষকরা সহজেই প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাচ্ছেন।
Advertisement
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের অনেক সুফল মিললেও দাসিয়ারছড়াকে এখনো স্বতন্ত্র ইউনিয়ন করা হয়নি।
বাসিন্দা আছমা বেগম ও লায়েফ আলী বলেন, অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের একটাই দাবি দাসিয়ারছড়াকে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ঘোষণা করা।
আরও পড়ুন খাল থাকলেও জলাবদ্ধতার কবলে হাজার বিঘা ফসলি জমিবাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, দাসিয়ারছড়াকে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ঘোষণা করা হলে প্রায় ১৪-১৫ হাজার মানুষ সরাসরি সেবা পাবেন। এতে এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষা, যোগাযোগ ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Advertisement
রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর/এএসএম