দেশজুড়ে

১৪০ বছরে যে স্কুল গড়েছে প্রধানমন্ত্রী থেকে ক্রীড়াতারকা

খুলনা অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনন্য এক বিদ্যাপীঠ খুলনা জিলা স্কুল। ইতিহাস, অর্জন, বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নিয়ে প্রায় ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠ এগিয়ে চলেছে। অবস্থান রেখেছে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, স্কাউটিং, বিজ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। এই বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি, সচিব, সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্ব।

Advertisement

যুগের তালে এই প্রতিষ্ঠান হয়েছে আধুনিক। আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শতবর্ষের ঐতিহ্যও সংরক্ষিত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুলনা জিলা স্কুলের কিছু কিছু দিকে উন্নয়ন প্রয়োজন এবং জনবল সংকট দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে খুলনা জিলা স্কুল ঘুরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টির অর্জন, পথ চলা ও বর্তমান পরিস্থিতি।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রভাত ও দিবা দুই বিভাগে মোট প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিদিন ৫টি করে ক্লাস নেওয়া হয়। আর ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি করে ক্লাস নেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ সংখ্যা ৫৩টি। তার মধ্যে শূন্য রয়েছে ছয়টি পদ। ৪র্থ শ্রেণির ১০টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য রয়েছে। ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রায় ৩৫টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

Advertisement

খুলনা জিলা স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক হয়েছে। তবে আধুনিক যুগের এই সময়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই দূরত্ব কমাতে সমাজ, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের একসঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

জিলা স্কুলের সব ক্ষেত্রে সুনাম অনেক গৌরবময়। বিভিন্ন খেলাধুলায় ও জাতীয় দিবসে জিলা স্কুলের ভূমিকা অনেক শক্তিশালী অবস্থানে থাকে। বিশেষ করে খুলনা জিলা স্কুলের স্কাউট দল ও বাদক দল একটি সুপরিপাটি ও সুসংগঠিত দল হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। ২০১৯ ও ২০২৬ সালে শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক খুলনা জিলা স্কুল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিখ্যাতদের স্মৃতিবিজড়িত জিলা স্কুল

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানা যায়, প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল ফজল এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মেজর এম এ গনি খুলনা জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। আব্দুল্লাহ উপন্যাসের লেখক ইমদাদুল হক, কবি ফররুখ আহমদ, শিক্ষাবিদ-নাট্যকার নুরুল মোমেন, পাকিস্তান সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী খান-এ-সবুর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কৃষি উপদেষ্টা সি এস. করিম, বিচারপতি মকসুমুল হাকিম, কথাশিল্পী আনিস সিদ্দিকী, বিশিষ্ট চিকিৎসক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ক্রিকেটার মাঞ্জারুল ইসলাম রানাসহ প্রমুখ এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সাবেক প্রখ্যাত অভিনেতা নাদিম, গোলাম মোস্তফা, উজ্জল, নাজমুল হুদা, প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। সাবেক সচিব আশরাফুল মকবুল, শেখ ওয়াহিদুজ্জামানসহ অনেক সচিব ও যুগ্ম সচিব এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নিজাম মোহাম্মদ সিরাজুল আলম খান এ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন। খুলনা জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক মরহুম তাজিমুল হোসেনের একমাত্র ছেলে মো. রেজাউল হক বর্তমানে আপিল ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ বিচারক। বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেট কিপার নুরুল হাসান সোহানসহ আরও অসংখ্য স্বনামধন্য চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সিভিল সার্ভিস, ক্রীড়াবিদ, গুণিজন এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ বিদ্যালয়ের ছাত্র।

Advertisement

বর্তমান সাফল্য

সম্প্রতি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বৃত্তিতে ৩১ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৫ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। এর আগে যশোর বোর্ডের মধ্যে পর পর ৮ বার জিলা স্কুল প্রথম স্থান অধিকার করে। স্কাউটেও জাতীয়ভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে। জিলা স্কুলে বড় গ্রন্থাগার এবং প্রায় ছয় হাজার বই রয়েছে। বিদ্যালয়ে নতুন করে ছয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। রয়েছে সুসজ্জিত বাগান। এছাড়া বিজ্ঞানের আধুনিক সংযোজন রোবটিক্স বিষয় নিয়েও চর্চা হচ্ছে।

খেলাধুলা, স্কাউট ও প্রতিযোগিতায় সাফল্য

এ বিদ্যালয়ে বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা বাংলাদেশ জাতীয় বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট, হ্যান্ডবল ও বাস্কেটবলে বিভিন্ন দলে খেলছে। দুইজন প্রাক্তন ছাত্র ২০১৪ সালে জাতীয় বাস্কেট বল দলে খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেট রক্ষক কাজী নুরুল হাসান সোহান খুলনা জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র এবং খুলনা জিলা স্কুল ক্রিকেট দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। প্রয়াত ক্রিকেটার কাজী মানজারুল ইসলাম রানাও খুলনা জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। চ্যানেল আই- এ বহুল প্রচারিত খুদে গানরাজ ও শ্রেষ্ঠ সংগীত শিল্পী হিসেবে ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত মো. নাইমুল ইসলাম রাতুল খুলনা জিলা স্কুলের ছাত্র। এ বিদ্যালয়ের ছাত্র নিলয় জোয়ার্দ্দার দ্বীপ ২০১৭ সালে, সেখ ইফতেখার সাকিব ২০২০ সালে, মো. নাফিস কবির-২০২০ সালে এবং সেখ ইমতিয়াজ শাকিল ২০২৪ সালে স্কাউটের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন।

এছাড়াও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় স্কাউটার সেখ সিরাজ হোসেন শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক ও খুলনা জিলা স্কুল শ্রেষ্ঠ স্কাউট গ্রুপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। দশম শ্রেণির ছাত্র পিনাক মুগ্ধ দাশ বিজয় দিবস রচনা প্রতিযোগিতা ২০২১-এ জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২ এ নির্ধারিত বক্তৃতায় জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। কাজী নাদিদ হোসেন ও আব্দুল ফাত্তাহ জুনিয়র সাইন্স অলিম্পিয়াড, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অংশ গ্রহণ করে খুদে প্রোগ্রামার হিসাবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। এছাড়া এ বিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিব মাহমুদ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (স্কুল পর্যায়) জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০২২ সালে সিয়াম সেখ শিশু একাডেমি আয়োজিত অঙ্কন প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন খেলাধুলা, পার্বিক অনুষ্ঠান এবং জাতীয় দিবসগুলোতে তাদের ভূমিকা রেখে চলেছে।

আরও পড়ুন স্মৃতিপটে জিলা স্কুল / ২০০ বছরের রংপুর জিলা স্কুলের মাঠজুড়ে সাজানো রঙিন শৈশব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ওপর ২০২৫ সালের গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনজন শিক্ষার্থী উপজেলা পর্যায়ে প্রথম, জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে।

খুলনা জিলা স্কুলের শিক্ষক ও স্কাউটার শেখ সিরাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, খুলনা জিলা স্কুলে বাংলাদেশ স্কাউটস কার্যক্রম ১৯৭৪ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে স্কাউটরা প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে এবং স্কাউট শিক্ষক হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক খুলনা জেলা স্কুল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশ স্কাউটসের একটি ইউনিট জিলা স্কুল স্কাউট ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড, ২০২০ সালে নাসিব কবির শেখ ও ইফতেখার সাকিব প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন। ২০২২ সালে শেখ ইমতিয়াজ শাকিব প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন। এছাড়া জাতীয় দিবস উদযাপনে স্কাউট দল অংশ নেয়।

স্মৃতির পাতায় জিলা স্কুল

খুলনা জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেট রক্ষক কাজী নুরুল হাসান সোহান বলেন, ‘যখন স্কুলে ছিলাম একটা আলাদা ফিলিংস ছিল। কারণ স্কুলে ক্রিকেট টিমেও আমাদের ক্রিকেট খেলা হতো এবং ওই সময় আমরা পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। সব থেকে বড় সুবিধাটা ছিল, আমরা দুই-তিনজন একসাথে ছিলাম যারা ক্রিকেট খেলতাম। এই খেলার সুবাদে স্কুলে অনেক বেশি ক্লাস ফাঁকি দেওয়া হতো। আমার মনে হয় প্রায় প্রতিদিনই, বিশেষ করে যখন ০৯ বা ১০-এ এসএসসির আগে ছিলাম, তখন ৩-৪টা ক্লাস করার পর টিফিনের পরই ছুটি নিয়ে বের হয়ে যেতাম।’

আরও পড়ুন পাবনা জিলা স্কুল / যে মাঠে বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর পদচিহ্ন সেখানে আজ কেবলই সংকট

তিনি বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা আমাদের শিক্ষক যারা ছিলেন তারাও খেলার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী ছিলেন। পুরো এনভায়রনমেন্টটাই অন্যরকম ছিল। জিলা স্কুলের মাঠেই খেলা হতো। তাই যখন অন্যান্য স্কুলগুলোর সঙ্গে যেমন বরিশাল, যশোর বা বাইরে থেকে যেসব স্কুল আসত তাদের সঙ্গে খেলা হতো, তখন স্টুডেন্টদের মাঝে যে উদ্দীপনা পেতাম তা জীবনের একটা অন্যরকম মোমেন্ট। ওই মোমেন্টটা চাইলেও আর পাওয়া যাবে না বা ওই জিনিসগুলো শেয়ার করে বোঝানো যাবে না। আমি সবসময় এগুলো মিস করি এবং আমার মনে হয় এটি জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত যে আমরা এভাবে এনজয় করতাম এবং ওই ভালোবাসাটা সবার মাঝে ছিল।’

আরেক শিক্ষার্থী ঢাকায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী মির্জা সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেক কিছু ভুলে যাওয়া যায় কিন্তু স্কুল জীবনের স্মৃতি কখনো ভুলে যাওয়া যায় না। প্রায় ১৫ বছর আগে স্কুলজীবন সমাপ্ত হলেও জিলা স্কুলের কথা এখন অনেক মনে পড়ে। স্কুল জীবনের বন্ধুরা এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত সবাই। কখনো একত্র হলে স্কুল জীবনের অনেক স্মৃতির গল্প নতুন করে করা হয়। খুলনায় গেলে মাঝে মধ্যে ঘুরতে স্কুলে যাই। ১৫ বছরে স্কুল অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন স্কুল ভবন হয়েছে। এখন শুধু দুইটা লাল ভবন আছে। আমাদের সময়ে প্রশাসনিক ভবন বাদে সবগুলো ব্রিটিশ আমলের লাল ভবন ছিল। এখন তার সংখ্যা মাত্র দুইটি।’

আরও পড়ুন স্মৃতিপটে জিলা স্কুল / শিক্ষক সংকটে শতবর্ষের ঐতিহ্যে টান বরগুনা জিলা স্কুলে

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক পরিবর্তন হয়ে আধুনিক হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এগিয়ে যাক খুলনা জিলা স্কুল। সেই কামনা করি।’

খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে সৌন্দর্যের প্রলেপ লেগেছে যেমন তার সর্বাঙ্গে, তেমনি ভেতরের রূপও যেন ঠিকরে পড়ছে চতুর্দিকে। এর আলোকচ্ছটা দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের কাছেও পরিচিতি লাভ করেছে।’

আরও পড়ুন যশোর জিলা স্কুল / সংকটেও অম্লান ২০০ বছরের ঐতিহ্য

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে নজর দিয়েছি। ভেতরে বাগান করা হয়েছে। এতে মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সকলে সজাগ থাকি। শিক্ষকরা এখন শিক্ষার্থীদের প্রতি অনেক আন্তরিক। সব মিলিয়ে উদ্যম নিয়ে এগিয়ে চলছে ঐতিহ্যবাহী খুলনা জিলা স্কুল।’

খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার এস.এম ছায়েদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, খুলনা জিলা স্কুল খুলনা জেলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্কুল। এখানে প্রায় দুই হাজারের মতো শিক্ষার্থী বর্তমানে লেখাপড়া করছে। এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে শিক্ষকদের মানসিকতার অনেকটা অবনতি হয়েছে। শিক্ষকরা আগের মতো নিবেদিত প্রাণ হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে চান না। এ বিষয়টা নিয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দূরত্ব কমাতে চেষ্টা করছেন এবং সফলও হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, স্কুলে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। তবে স্কুলের বাথরুমগুলোর অবস্থা খারাপ। সেগুলো সংস্কারের প্রয়োজন। পুরাতন লাল বিল্ডিং পূর্বের আদোলে সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হবে। এজন্য বরাদ্দ এসেছে। কারণ লাল বিল্ডিংগুলো জিলা স্কুলের ঐতিহ্য। পাশাপাশি নতুন একটি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। স্কুল গেট এবং বাউন্ডারি ওয়ালগুলোও সংস্কার করা হবে। এছাড়া কর্মচারী সংকট রয়েছে। সব মিলিয়ে কিছু সংকট রয়েছে তবে তা সমাধান করা সম্ভব।

এফএ/জেআইএম