সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্যান্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
Advertisement
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান।
বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীরের ইস্যুতে আমি গতকালকেই কথা বলেছি, বিকেলের দিকে। আমি রাজশাহীতে ছিলাম, ওখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিল। আমি তার জামিনের বিষয়ে জানতে পেরেছি গতকালকে। ইউএই আদালতে তাকে শর্তসাপেক্ষে বেইল (জামিন) দেওয়া হয়েছে, যাতে ইউএই ছাড়তে না পারে, দেশ ত্যাগ করতে না পারে এই শর্তে’।
তিনি বলেন, ‘তা আমরা বিষয়টা জানার পরে আমাদের নিয়োজিত যে ল ফার্ম আছে, তাদেরকে বিষয়টা জানিয়েছি। আর ইউএই অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে আমাদের সচিব মহোদয় কথা বলেছেন। কি কি শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে, ইউএই না ছাড়ার শর্ত তো একটা শুনেছি, অন্যান্য শর্ত কি আছে, সেটা সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আর আমাদের যে ল ফার্ম নিয়োজিত আছে, তার বিষয়ে রিপ্যাট্রিয়েশনের জন্য যা যা কাগজপত্র আমরা পাঠাই, সেগুলো ওখানে আদালতে সাবমিট করার জন্য সে ল ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি, যেন ইমিডিয়েটলি তার জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করে, তারা আদালতের ডিরেকশন নেয়।’
Advertisement
সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তারপরও কেন জামিন দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের বিষয়ে, বিষয়টা পুরোপুরি না জেনে আমি মন্তব্য দিতে চাই না। আমাদের ল ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি সার্টিফাইড কপি তুলে কথা বলবে এবং আমরা এই ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি যেন তার জামিন বাতিলের জন্য তারা পিটিশন দেয়। কারণ তার কাছে অন্যান্য দেশেরও পাসপোর্ট থাকতে পারে, সেটা আমাদের সন্দেহ।’
আরও পড়ুন দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীরএদিকে, রাজধানীর কমলাপুর ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা। মানে দুটোকে আমরা নিরাপদ করার জন্য সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ খুব সমন্বিত প্রচেষ্টা করেছিল। কোন অসুবিধা হয় নেই এবং শান্তিপূর্ণভাবে সেটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্টো রথযাত্রার দিনে কমলাপুরের ওদিকে, মতিঝিলের ওদিকে একটা মেট্রোরেলের পিলারের নিচে একটা বোমা সদৃশ বিশেষ জিনিস পাওয়া যায়, একটা ছাতার মধ্যে। এটা আমাদের আনসার দুজন সদস্য এটা দেখার পরে পুলিশকে জানায়। পুলিশ তা কর্ডন করে রাখে এবং এটা বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে এটা সরায় এবং পরে তা বিস্ফোরণ করে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এতে করে খুব শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো পক্ষ হয়তো চেষ্টা করেছিল যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কিছু করা যায় কি না। তারা হয়তো চেষ্টা করেছিল। আমরা সেটা সতর্কভাবে দেখছি এবং একটা তদন্ত পরিচালনা করছি আমরা, এর পেছনে কারা আছে ফাইন্ড আউট করার জন্য।’
Advertisement
আশুলিয়ার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরপরে আশুলিয়াতে আরেকটি এরকম বোমা সদৃশ জিনিস পাওয়া গিয়েছে, যা একটা ব্যাগ রেখে গিয়েছে একজন দুষ্কৃতকারী। পরে সেটা একই কায়দায় উদ্ধার করে আমরা বিস্ফোরণ করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কি না, সেটা তদন্ত করতে বলেছি আমরা, তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগের সময়ের তুলনায় যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই, একই সময়ে এই বিষয়গুলো কিরকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটা কম। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি এবং আমাদের জাতীয় বিষয়গুলো যারা অ্যাড্রেস করে আরকি, উগ্রবাদী তৎপরতা বা এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে সব তৎপরতা, এগুলো যারা মনিটর করে, আমাদের স্পেশাল টিম আছে, তারা এ ব্যাপারে সতর্ক আছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা সার্জিও গরের সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সার্জিও গরের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই এটা ব্রিফ করেছে।’
পরে তিনি আরও বলেন, ‘সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরে নিজেই তো স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আশাবাদী এবং আস্থাশীল। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আস্থা রেখেছেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি সাধিত হবে, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তো তার মুখেরই কথা।’
আরএমএম/এসএনআর