মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ এক যুগেও শেষ হয়নি। দুই বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও তা অসমাপ্ত ভাবেই পড়ে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় এরই মধ্যে ভবনটি ভূতুড়ে রূপ ধারণ করেছে।
Advertisement
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর জেলা পরিষদের অধীনে ২০১১-১২ অর্থবছরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় একটি অডিটোরিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সার্বিক ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স রফিক কন্সট্রাকশন নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ডাসার মহিলা কলেজের অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করে। নাম দেওয়া হয় ‘বেগম রোকেয়া অডিটোরিয়াম’। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সভা, সেমিনার করার উদ্দেশ্যেই এই অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। এই দোতলা ভবন বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামে একসঙ্গে ৭০০ মানুষ উপস্থিত থাকতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ডাসার উপজেলাবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অডিটোরিয়াম নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই বছরের মাথায়। ৭ কোটি এক লাখ টাকায় চুক্তি হলেও এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ না হতেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৮৫ শতাংশ কাজের অগ্রগতি দেখালে পুরো টাকাই পরিশোধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর জেলা পরিষদ থেকে জামানতের টাকাও তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অডিটোরিয়ামটি উদ্বোধনের আগেই বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ উপজেলাবাসী। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, নতুন করে বরাদ্দের ব্যবস্থা করে পরিপূর্ণভাবে অডিটোরিয়ামটি দ্রুত চালু করা হবে।
Advertisement
স্থানীয় তাহসান হোসেন বলেন, ডাসার উপজেলার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে অডিটোরিয়ামটি। অথচ ১২ বছর পার হলেও এখনও এর কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। তাই এটি চালু করাও সম্ভব হয়নি। এটি চালু হলে বড় বড় অনুষ্ঠানগুলো এখানে করা যেতো। তাই এটি দ্রুত চালুর দাবি জানাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় এই ভবনটি পড়ে আছে। ফলে জায়গাটি মাদকের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় কম হলেও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে মাদকসেবীরা নানা ধরনের মাদক সেবক করে থাকে। এতে করে আশপাশের মানুষজন আমরা অনিরাপদে আছি। তাই এটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাই।
ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা বলেন, ভবনটি চালু করতে বিভিন্ন মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, এই কাজের জন্য প্রজেক্টের বরাদ্দ নেই। আবার যখন বরাদ্দ হবে, তখন কাজ শুরু হবে। এরই মধ্যেই জেলা পরিষদের একটি মিটিংয়ে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তারা বলেছেন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাই আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।
Advertisement
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এফএ/জেআইএম