ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
Advertisement
তিনি বলেছেন, বর্ষা মৌসুমে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও গতিশীল, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের কার্যক্রম পর্যালোচনা বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চসিক এলাকার মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। জুলাই শেষে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩৮ জন। আগস্টের প্রথম কয়েক দিনে আরও ১৮ জন আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ জন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে তিনি জানান।
Advertisement
তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি ধুয়ে যাওয়ায় এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ কম থাকে। তবে একদিন বৃষ্টি হয়ে কয়েকদিন পানি জমে থাকলে সেটিই ডেঙ্গু বিস্তারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তাই নগরজুড়ে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩সম্প্রতি ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, তাদের এনএস-ওয়ান পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, তারা অন্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যার উপসর্গ ডেঙ্গুর সঙ্গে মিল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়র কোতোয়ালী, বায়েজিদ, বন্দর, বাকলিয়া, হালিশহর, পাহাড়তলী, আকবরশাহ, সদরঘাট, ডবলমুরিং, খুলশী, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, ইপিজেড, আগ্রাবাদ ও চকবাজার এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, বর্তমানে চসিকের কাছে ছয়টি আধুনিক স্প্রে মেশিন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ১০টি স্প্রে মেশিন সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ৪১টি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ৪১টি স্প্রে মেশিন সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
Advertisement
মেয়র বলেন, বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত লার্ভিসাইড ও বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, খালি প্লট ও যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্পৃক্ত করে অভিযান পরিচালনারও নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের কার্যক্রম পর্যালোচনায় জানানো হয়, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৭৯৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ১৬০টির সমাধান হয়েছে এবং ৬৩৯টি অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মশা সংক্রান্ত ৪১টি অভিযোগের মধ্যে ৩৬টির সমাধান করা হয়েছে।
মেয়র নির্দেশ দেন, ওয়ার্ড সীমানার কারণে কোনো অভিযোগ বাতিল করা যাবে না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে, যেন নাগরিকরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
এছাড়া নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি হাটহাজারী রোড থেকে অক্সিজেন, লালখান বাজার, রেডিসন ব্লু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্ভাব্য ভিআইপি রুট পরিদর্শনে দুটি বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেন। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে এসব টিমকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সভায় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআরএএইচ/এমকেআর