খেলাধুলা

সভাপতির পদ বাঁচাতে অবশেষে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বারস্থ ইনফান্তিনো!

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার আংশিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর নিজের পদ রক্ষায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন তিনি।

Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইনফান্তিনো সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফিফার ভেতরে ও বাইরে যখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন এই বৈঠককে নিজের অবস্থান রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।

ট্রাম্পের সমর্থন হারিয়েছেন ইনফান্তিনো?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই সম্পর্কেও ভাটা পড়েছে।

Advertisement

ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বর্তমানে ট্রাম্প ইনফান্তিনোর ফোন ধরতেও আগ্রহী নন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, নেতিবাচক সংবাদ ও সমালোচনার কারণে ইনফান্তিনো নিজেকে ‘একঘরে’ মনে করছেন এবং প্রকাশ্যে তার পক্ষে দাঁড়াতে পারেন- এমন প্রভাবশালী মিত্র খুঁজছেন।

২০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাই সংকটের মূল

বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা থেকে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিশ্বকাপের সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি ও লাইসেন্সিংসহ বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার প্রস্তাব ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল, যার প্রতিষ্ঠাতা জশ কুশনার, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে কিনতে আগ্রহ দেখায়। পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।

Advertisement

কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব ফুটবলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, অধিকাংশ সদস্য ফেডারেশন ও ফুটবল প্রশাসককে না জানিয়েই গোপনে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

ফিফার ভেতরেও ক্ষোভ

শুধু বাইরেই নয়, ফিফার অভ্যন্তরেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামোর প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন। তার দাবি, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গোপন আলোচনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

এমন পরিস্থিতিতে ফিফার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘প্রজেক্ট কিল দ্য মনস্টার’ নামে একটি উদ্যোগও শুরু করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য ইনফান্তিনোকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া।

উয়েফার বয়কটের হুমকি

ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কাছ থেকে। গত ৩০ জুলাই উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, ফিফা বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করবেন, যদি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না করা হয়।

এই সিদ্ধান্ত ফিফাকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটে ফেলেছে। কারণ ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন ও পর্তুগাল- দুই দেশই উয়েফার সদস্য। ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে, আয়োজক দেশই নিজেদের বিশ্বকাপে অংশ নেবে না।

ব্লাটারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

২০১৬ সালে দুর্নীতিকাণ্ডের পর সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তখন তিনি ফিফায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু এক দশক না পেরোতেই তিনিও নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির উদ্যোগ, ফিফার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতায় তার নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক কৌশল হলেও, সেটি তার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারবে কি না, সেটাই এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

আইএইচএস/