আইন-আদালত

স্ত্রী-শাশুড়ি হত্যা: আদালতে দোষ স্বীকার করে আসামি হৃদয়ের জবানবন্দি

রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক বিরোধে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মো. হৃদয় ওরফে শিপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Advertisement

সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আসামি হৃদয় শিপনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পরিদর্শক সরদার ইব্রাহিম হোসেন সোহেল।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হৃদয় স্বেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Advertisement

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশনের উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর হৃদয় নিজেই কলাবাগান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান।

আরও পড়ুন বাসায় ঢুকে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ, নিয়ে গেলেন শিশুপুত্রকে

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে ফারজানা আক্তার রাত্রির সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো।

তদন্তে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়িতে যান। ৩০ জুলাই হৃদয়ও সেখানে যান। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই ৩১ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। পরদিন রাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাসায় ফেরেন।

Advertisement

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২ আগস্ট সকালে বাসায় হৃদয় ও রাত্রির মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রান্নাঘর থেকে একটি সবজি কাটার ছুরি এনে হৃদয় স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত রাত্রির বাবা মো. ফারুক বাদী হয়ে ২ আগস্ট কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ হৃদয় ওরফে শিপনকে গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ধারাবাহিকতায় তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এমডিএএ/বিএ