ইসলাম যেমনিভাবে মালিকদের ওপর শ্রমিকের বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব-কর্তব্য ও বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, তেমনিভাবে শ্রমিকদের ওপরও বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কারণ সুসম্পর্ক একতরফা তৈরি হয় না। এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সদিচ্ছা ও সমঝোতা।ইসলামের দৃষ্টিতে একজন শ্রমিক নিজের ওপর মালিকের কাজের দায়িত্ব নিয়ে এমন এক নৈতিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে, সে এ কাজ শুধু পেটের জন্যই করে না; বরং সে মালিকের দেয়া দায়িত্ব পালন করবে পরকালের সফলতার আশায়। কুরআন-হাদিস অনুযায়ী শ্রমিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
Advertisement
আরও পড়ুন :
অন্ধ সাহাবির প্রশংসায় নাজিল হয়েছিল যে আয়াতমালিকের চুক্তি পূর্ণ করার ব্যাপারে কুরআনে এসেছে, ‘তোমরা প্রতিশ্রুতি পালন করবে। প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়াত তলব করা হবে। (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৩৪)
শ্রমিকের দায়িত্ব হচ্ছে চুক্তি মোতাবেক মালিকের দেয়া জিম্মাদারি অত্যন্ত আমানতদারীতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে সম্পাদন করা। আল্লাহ বলেন- মজুর হিসেবে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত। (সুরা কাসাস : আয়াত ২৬) শ্রমিক কাজের দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনোরূপ গাফলতি বা অবহেলা করতে পারবে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘মন্দ পরিমাণ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে এবং যখন তাদের জন্য মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়। (সুরা মুতাফফিফিন : আয়াত ১-৩)এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মাপে কম-বেশি করার ভাবার্থ ঐ সব শ্রমিককেও শামিল করা হয়েছে, যারা নিজেদের কাজের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক পুরোপুরি আদায় করে কিন্তু কাজের বেলায় গাফলতি বা অবহেলা প্রদর্শন করে। (মারেফুল কুরআন)
Advertisement
পরিশেষে...যে কাজ যেভাবে করা উচিত সে কাজ সেভাবে আঞ্জাম দেয়াই শ্রমিকের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা কাজ করে তখন আল্লাহ তাআলা চান সে যেন ঐ কাজ যেভাবে করা দরকার ঠিক সেভাবেই আঞ্জাম দেয়।(কানযুল উম্মাল)সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সকল শ্রমিক শ্রেণিকে আল্লাহর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মালিকের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।এমএমএস/এবিএস