২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আফ্রিকার দুই শক্তিশালী দল সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশ দুটির হাজারো ফুটবলভক্তের বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
Advertisement
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে যুক্ত করায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যাদের আগে থেকে বৈধ ভিসা নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা থেকে কার্যত বঞ্চিত হবেন।
মরক্কোয় চলমান আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে উপস্থিত সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত তীব্র হতাশা তৈরি করেছে।
সেনেগালের সমর্থক জিব্রিল গেয়ে মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহরে এপিকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট কেন নির্দিষ্ট কিছু দেশের সমর্থকদের বিশ্বকাপে যেতে বাধা দিতে চাইবেন। যদি এমনই হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়াই উচিত ছিল না।’
Advertisement
তার মতে, যোগ্যতা অর্জন করা দেশগুলোর সমর্থকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে খেলা দেখার সুযোগ নিশ্চিত করা আয়োজক দেশের দায়িত্ব।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে ‘স্ক্রিনিং ও ভেটিং প্রক্রিয়ার ঘাটতি’কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট ছাড়াও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ইরান ও হাইতিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
যদিও খেলোয়াড়, টিম কর্মকর্তা এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে, তবে সাধারণ সমর্থকদের জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।
সেনেগালের নারী সমর্থক সংগঠনের সভাপতি ফাতু দিয়েদিউ বলেন, ‘আমরা যেতে চাই, কিন্তু কিভাবে যাব—সেটাই জানি না। বিশ্বকাপ এখনও শুরু হয়নি, হয়তো তারা সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’
Advertisement
এর আগে কাতার বিশ্বকাপেও দলকে সমর্থন করতে গিয়েছিলেন সেনেগালের সমর্থক শেখ সি। তিনিও এবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। ‘আমরা সব জায়গায় আমাদের দলের সঙ্গে গেছি। সেনেগাল যখন বিশ্বকাপে খেলবে, তখন আমাদের সেখানে থাকতেই হবে’- বলেন তিনি।
সেনেগাল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে। একই মাঠে ২০ জুন নরওয়ের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন কানাডার টরন্টোতে।
আইভরি কোস্টও যুক্তরাষ্ট্রে দুটি ম্যাচ খেলবে— ১৪ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে শুরু, ২৫ জুন একই ভেন্যুতে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। মাঝখানে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটি হবে টরন্টোতে।
আইভরি কোস্টের কোচ এমারসে ফায়ে আশাবাদী, সমর্থকদের জন্য কোনো না কোনো সমাধান আসবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আফ্রিকা কাপের সময় মরক্কোয় ভিসা জটিলতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমর্থকরা মাঠে উপস্থিত থাকতে পেরেছিলেন।
অন্যদিকে, খেলোয়াড়রা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বলে মনে করছেন। আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে বলেন, ‘সমর্থক থাকুক বা না থাকুক, আমাদের কাজ মাঠে সেরা খেলাটা দেওয়া।’
দলটির অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে জানান, সরকার ও ফুটবল ফেডারেশন মিলে সমর্থকদের জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, খরচও বড় বাধা
অনেক সমর্থকের মতে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বাইরেও উচ্চ টিকিট মূল্য একটি বড় সমস্যা। সেনেগালের এক সমর্থক বলেন, রাজনৈতিক কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান না, তার ওপর টিকিটের দামও অত্যন্ত বেশি।
আইভরি কোস্টের সমর্থক তান দেতোপেউ বলেন, `নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও খুব বেশি মানুষ বিশ্বকাপে যেতে পারত না। খরচটাই অনেক বেশি।'
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার দুই শক্তিশালী দলের সমর্থকদের উপস্থিতিকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের আগে কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সমাধান আসে কি না।
আইএইচএস/