আন্তর্জাতিক

নতুন করে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, শত শত ট্রাক্টর নিয়ে রাস্তায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও মারকোসুর বাণিজ্য চুক্তিসহ নানা দাবি নিয়ে নতুন করে রাজধানী প্যারিসে ব্যাপক বিক্ষোভে নেমেছেন ফ্রান্সের কৃষকরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শত শত ট্রাক্টর নিয়ে তারা শঁজেলিজে সড়ক ধরে এগিয়ে গিয়ে ফরাসি পার্লামেন্ট ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন।

Advertisement

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৬টার কিছু আগে প্রায় ১৫টি ট্রাক্টরের প্রথম বহর প্যারিসে প্রবেশ করে। পরে আরও বহু ট্রাক্টর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শঁজেলিজে সড়ক ধরে এগোতে এগোতে তারা হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। অন্তত ৩৫০টিরও বেশি ট্রাক্টর মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ ভবনের কাছাকাছি পার্ক করা হয়। এতে অংশ নেন অন্তত ৮০০ জন কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মারকোসুর জোটের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ।

এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের কৃষিখাতে গভীর অসন্তোষ ও হতাশার প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে, ইইউ ও দক্ষিণ আমেরিকার মারকোসুর জোটের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাকে কৃষকরা ‘শেষ ধাক্কা’ হিসেবে দেখছেন।

Advertisement

ফরাসি কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে আয় অনিশ্চয়তা, পরিবেশ সংক্রান্ত কঠোর নিয়মকানুন ও সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। গত ডিসেম্বর থেকে তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। বিশেষ করে, গবাদিপশুর চর্মরোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তারা অসন্তুষ্ট।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় কৃষক সংগঠন এফএনএসইএর একজন নেতা বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা আমাদের খামার থেকে কোনো অর্থই উপার্জন করতে পারিনি। ৫৬ বছর বয়সী কৃষক ও আন্দোলনকারী গিয়োম মোরে বলেন, আমরা একেবারে শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি। আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাবো না, যা আমাদের একটু হলেও স্বস্তি দেবে

এফএনএসইএ ও আরেকটি সংগঠন ‘জ্যুন অ্যাগ্রিকালতুর’ সরকারের কাছে ‘দ্রুত ও বাস্তব পদক্ষেপ’ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী অ্যানি জেনেভার্ড। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু মঙ্গলবারই নতুন করে কিছু ঘোষণা দেবেন। এছাড়া পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ইয়েল ব্রাউন-পিভের সঙ্গেও কৃষক প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

Advertisement

চুক্তি ঘিরে অসন্তোষ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের বেশিরভাগই মারকোসুর বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে। সমর্থকদের মতে, এই চুক্তি রপ্তানি বাড়াতে, ইউরোপের দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ।

২৫ বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর তৈরি হওয়া এই চুক্তি কার্যকর হলে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি করবে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে নিয়ে গঠিত মারকোসুর জোটের মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে।

এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পণ্য ও ওষুধ কম শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে।

তবে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের কৃষকদের আশঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সস্তা গরুর মাংস ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ঢুকে পড়লে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

গত সপ্তাহের শেষে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডে হাজার হাজার কৃষক এই চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। ফ্রান্সে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ চুক্তি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা দেখা গেছে। অনেক রাজনীতিকই এটিকে দেশের প্রভাবশালী কৃষিখাতের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ