খেলাধুলা

ট্রাম্পের নীতির প্রভাব: ১৭০০০ টিকিটের আবেদন ফিরিয়ে নিল সমর্থকরা

বিশ্ব রাজনীতির আঁচ পড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবলে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক সিদ্ধান্তে আশঙ্কিত ফুটবলপ্রেমীরা। প্রায় ১৭ হাজার ফুটবলপ্রেমী তাদের বিশ্বকাপের টিকিটের বুকিং বাতিল করেছেন। তাদের আশঙ্কা খেলা দেখতে আমেরিকায় গেলে সমস্যা পড়তে হতে পারে।

Advertisement

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ড এবং ইরানে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমেরিকা-ডেনমার্ক সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশ এবং তাদের নাগরিকদের উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এ পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে নিরাপদ মনে করছেন না বেশ কিছু দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। আশঙ্কা, আমেরিকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন তারা। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

তাই আগে থেকে খেলা দেখার টিকিট বুক করলেও তারা তা বাতিল করছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেই বৈঠকে থাকার কথা ফিফার কর্মকর্তা এবং বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিদের।

Advertisement

জর্ডানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ১৬ হাজার ৮০০-র বেশি ফুটবলপ্রেমী তাদের বিশ্বকাপের টিকিট বুকিং বাতিল করেছেন। ফুটবলপ্রেমীদের কেউ কেউ আগামী ফুটবল বিশ্বকাপে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলি বয়কটের ডাকও দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়াচ্ছে বয়কটের প্রচার। দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আশঙ্কা বেশি।

বিক্রি হওয়া টিকিটের টাকা ফেরত না দেয় না ফিফা। এই নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। এবারও অন্যথা হয়নি। ফলে প্রথম দু’দফায় বিক্রি হওয়া টিকিট বাতিল সম্ভব নয়। তবে তৃতীয় দফায় টিকিট কেনার আবেদন ফিরিয়ে নিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। চাহিদা কমেছে বেশ কিছু দেশের ফুটবল সংস্থারও।

পাল্লা দিয়ে কমছে আমেরিকায় বিশ্বকাপের শহরগুলির হোটেলের চাহিদা। মাদুরো অপহরণের পর থেকে হোটেলের রুম বুকিংয়ের হারও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সমস্যায় পড়েছেন টিকিট কিনে রাখা এজেন্টরাও।

আমেরিকার সঙ্গে মেক্সিকো এবং কানাডা এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক। ৪৮টি দেশ খেলবে বিশ্বকাপে। রেকর্ড মুনাফার লক্ষ্যে এবার টিকিটের দাম বাড়িয়েছিল ফিফা। তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে অসন্তোষ তৈরি হলেও পাত্তা দেননি ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতির যুক্তি ছিল, খেলার মান বাড়ছে বলেই টিকিটের দাম বাড়ছে। পরিসংখ্যান দিয়ে টিকিটের প্রবল চাহিদা তুলে ধরেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের বিদেশনীতি এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন তিনিও।

Advertisement

আইএইচএস/