দুপুর বা রাতের পূর্ণাঙ্গ খাবারের পরও অনেকের পেট যেন দ্রুত খালি হয়ে যায়। লাঞ্চ বা ডিনার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বারবার ক্ষুধার অনুভূতি চলে আসে আর স্ন্যাকস বা মিষ্টির প্রতি হাত চলে যায়। শুধু খিদের অনুভূতি নয়, এটি শরীরের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, পানিশক্তি এবং মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
Advertisement
এই ধরনের বারবার ক্ষুধা কেবল অস্বস্তিকরই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চলুন জেনে নেই কী কারণে লাঞ্চ বা ডিনার করার পরও বারবার খিদে লাগে।
প্রোটিনের ঘাটতি: খিদে দীর্ঘ সময় মেটাতে পাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা জরুরি। মাছ, মাংস, ডিম বা ডাল জাতীয় প্রোটিন খেলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে। প্রোটিন কম থাকলে লাঞ্চের পরও ক্ষুধা বারবার ফিরে আসে।
Advertisement
ঘুমের অভাব: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ঘ্রেলিন বেশি নিঃসৃত হয়। ফলে লাঞ্চ বা ডিনারের পরও ক্ষুধার অনুভূতি বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কম পানি পান করা: অনেক সময় শরীরে পানির প্রয়োজনকে আমরা খিদে ভেবে ভুল করি। নিয়মিত ৩–৪ লিটার পানি পান করলে পেট ভরা থাকার অনুভূতি বেশি থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
ফাইবারের অভাব: ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন সবজি, ফল বা শস্য পেট অনেকক্ষণ ভর্তি রাখে। এই ধরনের খাবার কম খেলে লাঞ্চ বা ডিনারের পরও বারবার ক্ষুধা অনুভূত হয়।
আরও পড়ুন:
Advertisement
মদ্যপানের প্রভাব: অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও ক্ষুধা বেশি লাগে। এটি হজম এবং হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে, যার ফলে বারবার খিদে আসে।
স্ট্রেস ও মানসিক চাপ: স্ট্রেসের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ থেকেই ক্ষুধা অনুভূতি তীব্র হয়। তাই মানসিক চাপ কমানোও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লাঞ্চ বা ডিনারের পরও বারবার খিদে লাগার পিছনে প্রোটিন ও ফাইবারের ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান না করা, বেশি মদ্যপান এবং স্ট্রেসের মতো কারণ কাজ করে। এগুলো বুঝে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারায় ছোটখাটো পরিবর্তন আনা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
জেএস/