ওজন কমানো আজকের ব্যস্ত জীবনযাপনে অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নানা ডায়েট, ব্যায়াম এবং সাপ্লিমেন্টেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে সাহায্য করতে পারে এমন একটি গোপন ধন হলো করলার রস। তিক্ত স্বাদের এই সবজি শরীরের মেটাবলিজমকে উজ্জীবিত করে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ক্যালোরি ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখে।
Advertisement
নিয়মিত করলার রস পান করলে শুধু ওজনই নয়, রক্তে শর্করার মাত্রা, হজম ক্ষমতা এবং শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে উন্নত হয়। চলুন জেনে নেই, প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে-
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: করলার রসে কম ক্যালোরি এবং প্রচুর ফাইবার থাকে। এটি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে এবং হঠাৎ অতিরিক্ত খাবারের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে করলার রস ওজন কমানোর সরাসরি সমাধান না হলেও এটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: করলার মধ্যে এমন যৌগ রয়েছে। যেমন-চারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি, যা রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলো ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়ায়, যার ফলে খাবারের শর্করা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং চর্বিতে রূপান্তরিত হওয়া কমে। এই প্রক্রিয়াটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
হজম এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি: করলার তিক্ততা হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে, যা পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। ফাইবার সমৃদ্ধ করলা অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। তবে সংবেদনশীল পেটের জন্য খালি পেটে অতিরিক্ত করলা রস পান করা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
দাঁত সুস্থ রাখতে যেসব ফল খাওয়ায় লাগাম টানাই ভালো শীতেও শসা খাওয়া নিরাপদ, জানুন সঠিক নিয়ম রক্তে শর্করা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ধনিয়া পাতার জাদুঅ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে: করলায় ভিটামিন সি ও পলিফেনল আছে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত করলার রস পান করলে ধীরে ধীরে কোষীয় স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হলেও সব রোগের নিরাময় নয়।
Advertisement
হরমোন এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখে: করলার রস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং খাবারের পরে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া, এটি প্রদাহ কমায় এবং ‘লিপিড প্রোফাইল’ উন্নত করে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তবে হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ সেবনকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে, হেলথ লাইন
জেএস/