ক্যাম্পাস

টিএসসিতে হয়ে গেলো ৩ দিনব্যাপী পিঠামেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে হয়ে গেলো ৩ দিনব্যাপী পিঠামেলা। শীতের পিঠার এই আয়োজনে উৎসবে মেতেছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে দাম নিয়ে অভিযোগ করেন অনেকে। তারা বলছেন, সবকিছুর সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর এমন আয়োজন করলে বাড়তি আনন্দ যোগ হয়।

Advertisement

পিঠা উৎসবে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি হয়। তবে শিক্ষার্থীরা বলেন, পিঠার দাম ও মানের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। ক্যাম্পাসের বাইরে যেসব পিঠা ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যায়, টিএসসি প্রাঙ্গণে সেগুলো ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়। অনেক শিক্ষার্থী পিঠা কিনতে না পেরে শুধু দেখেই চলে যান।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রাফিয়া ইসলাম বলেন, শীত উৎসবের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, কিন্তু দামের দিকে তাকালে মনে হয় এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে করা হয়নি।

একই অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তারমতে, উৎসব যদি সবার জন্য হয়, তাহলে দামও সবার নাগালে হওয়া উচিত।

Advertisement

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অনিকুর রহমান বলেন, একেকটি পিঠার দাম ৫০ টাকা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই টাকায় একজন শিক্ষার্থীর এক বেলার খাবার হয়ে যায়। উৎসব যদি শিক্ষার্থীদের জন্য হয়, তাহলে এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা যায় না।

চড়া দামের কারণ হিসেবে আয়োজক সংগঠন রুট ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ এর একজন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটির সেক্রেটারি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী) শাহরিয়ার নাজিম সীমান্ত বলেন, পিঠার দাম তুলনামূলক বেশি রাখা হয়, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, পিঠা বিক্রেতারা জানান, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণেই পিঠার দাম বেশি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো ছাড় ছিল না বলে জানান পিরোজপুর পিঠাঘর ও বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জ পিঠাঘরের বিক্রেতারা।

এদিকে, স্টল ভাড়া নিয়ে ভিন্ন তথ্যও উঠে এসেছে। আয়োজকদের একজন সীমান্ত জানান, প্রতিটি স্টলের জন্য তিন দিনের ভাড়া নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা। বরিশাল মেহেন্দীহঞ্জ পিঠাঘরের একজন বিক্রেতা বলেন, দিনপ্রতি নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা।

Advertisement

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পিঠা উৎসব কল্যাণ সমিতির সঙ্গে যুক্ত মেহেদী হাসান (যিনি বিক্রেতা ও আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় করে মেলার আয়োজন করেন) জানান, প্রতিটি দোকান থেকে দিনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা করে, যা আয়োজক ও দোকানিদের বক্তব্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

আয়োজনে প্রশাসনিক নিয়ম মানা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, টিএসসির পায়রা চত্বরে কোনো কর্মসূচি আয়োজন করতে হলে দিনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করার কথা থাকলেও, টিএসসির পরিচালক ফারজানা বাসার জানান, আয়োজক কমিটি এখনো কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। তিনি আরও জানান, ‘রুট ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ’ নামে কোনো সংগঠন টিএসসির নিবন্ধিত সংগঠন নয় এবং টিএসসির খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণের কোনো দায়বদ্ধতাও তাদের নেই।

শুধু দাম নয়, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাবির শিক্ষার্থীদের ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপে অনিকা তাবাস্সুম লেখেন, টিএসসিতে উৎসবের নামে বহিরাগতদের ভিড় বেড়েছে এবং এতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শীতকালে পিঠামেলার মতো আয়োজন যদি সত্যিই শিক্ষার্থীদের জন্য হয়, তাহলে দামের লাগাম টানা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এফএআর/এসএনআর