মেহেরপুরে ভালোবাসার টানে এক কিশোরীকে বিয়ে করতে এসে পরিচয় গোপন করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন দুই চীনা নাগরিক।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী পাচার ও অনলাইন প্রেমের ফাঁদ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Advertisement
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুইজন চীনা নাগরিক ফেসবুকের মাধ্যমে মৃত লিটনের কন্যা মরিয়ম খাতুনের (১৫) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তারা সরাসরি গ্রামে এসে মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চীনা নাগরিকদের আকস্মিক আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মেয়েটির বয়স, বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় এবং বিয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার সাহেবপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরিবার সূত্র জানায়, মরিয়ম লেখাপড়া করে না এবং সে বয়সে অপ্রাপ্তবয়স্ক।
Advertisement
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে মেয়ের পরিবার ও চীনা নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা আয়োজন করা হয়। পারিবারিক সম্মতি ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয় পুলিশ। তবে চীনা নাগরিকরা সে প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা কোনো ধরনের লিখিত পরিচয়পত্র বা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে চীনা নাগরিকদের আটক করেনি কিংবা তাদের পরিচয় সংরক্ষণ করেনি। পরে জানা যায়, তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনে ‘চাকমা’ নাম ব্যবহার করে টিকিট কেটে ঢাকা অভিমুখে এলাকা ছাড়েন।
এ বিষয়ে সাহেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিক জানান, টেংরামারি গ্রামের একজন স্থানীয় ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন দিলে আমরা সেখানে যাই। দুজন চীনা নাগরিককে পাওয়া যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদেরকে বুঝিয়ে শান্তভাবে দুপুর দুইটার রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসে বৈধভাবে বিয়ের উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আসিফ ইকবাল/কেএইচকে/এমএস
Advertisement