বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) র্যালি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
Advertisement
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে র্যালিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, আজ বিশ্ব হিজাব দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে দাঁড়িয়ে পুরো বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, হিজাব আমার অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা কেউ করবেন না। আমরা অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে ও মুক্তভাবে চলাফেরা করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, হিজাবের কারণে অনেকেই বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বারবার হিজাবকে প্রগতির অন্তরায় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যেন হিজাব উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা।
Advertisement
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখেছি, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় কিভাবে হিজাব ও নিকাবকে অগ্রহণযোগ্য করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই ধরনের চর্চার মাধ্যমে অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং একইসঙ্গে একটি নোংরা ধারণা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে- যেন যারা হিজাব বা নিকাব অনুসরণ করেন, তারা এখানে পড়ার বা কাজ করার যোগ্য নন। এই ধরনের চর্চার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর বিরুদ্ধে জোড়ালো প্রতিবাদ করছি। স্পষ্টভাবে জানাতে চাই-বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি এই ধরনের বৈষম্য চলতে পারে না। হিজাবী নারীদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে, যেন তারা তাদের যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
এ পর্যন্ত যারা নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, প্রত্যেকটি ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই অপসংস্কৃতি ও অপপ্রচার যেন আর কখনো প্র্যাকটিস না হয়, সেজন্য সর্বমহলের প্রতি আহ্বান জানান।
ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া ও কমনরুম বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমা বলেন, আজ ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন। প্রায় ১৪০টি দেশে এই হিজাব দিবস পালিত হয়, আমাদের দেশেও গতবছর হিজাব দিবস পালিত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই দিবস পালিত হবে।
এফএআর/জেএইচ
Advertisement