নিজেদের বাচ্চাকে দেখাশোনার জন্য ১১ বছরের মেয়ে শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে বাসায় আনেন বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী। শিশুটির বাবার দারিদ্র্যতার সুযোগে নিয়ে কাজে আনা হয় তাকে। কথা ছিল ভবিষ্যতে শিশুটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন তারা।
Advertisement
তবে গৃহকর্মী হিসেবে নেওয়া ১১ বছরের শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান এ দম্পতি। মারধরসহ খুন্তি গরম করে শিশুটির শরীরে সেঁকাও দেওয়া হতো।
এ ঘটনায় সাহস করে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা। মামলার পর বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। গ্রেফতার অন্য দুই আসামি হলেন- বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা জানান, দারিদ্র্যতার কারণে তার একমাত্র মেয়েকে (১১) বাচ্চা দেখাশোনার কাজের কথা বলে অভিযুক্ত দম্পতির কাছে তুলে দেন। ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাসও দেন তারা।
Advertisement
আরও পড়ুনশিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন, স্ত্রীসহ বিমানের এমডি গ্রেফতার ‘শিশুটিকে গরম খুন্তির সেঁকা দেওয়া হতো’, স্ত্রীসহ বিমানের এমডি কারাগারে
মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে গত বছরের জুনে তার মেয়েকে সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ তিনি গত ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন। এরপর মেয়েটিকে তার পরিবারের সঙ্গে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি বিমানের এমডির স্ত্রী বীথি ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান। তাকে নিয়ে যেতে বলেন। মেয়েকে আনতে গেলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
শিশুটির বাবা বলেন, কিন্তু মেয়েকে নিয়ে আসার সময়ই মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পাই। মেয়েটি তখন ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে বিমানের এমডির স্ত্রী বীথি উত্তর দিতে পারেননি।
Advertisement
এরপর নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তার বাবা।
টিটি/কেএসআর