রমজানে সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতার যেন পরম স্বস্তির মুহূর্ত। তবে অনেকেই একটি সাধারণ ভুল করে থাকেন, ইফতারের অল্প সময় পরই ভারী খাবার খেয়ে ফেলেন। ফলে পরতে হয় ভোগান্তিতে। দেখা দেয় হজমের সমস্যা, অস্বস্তি, অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং ঘুমের ব্যাঘাত। সবারই জানা উচিত ইফতার থেকে রাতের খাবারের বিরতি কত সময় হওয়া উচিত? চলুন জেনে নেই এর সঠিক সময়।
Advertisement
সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীর প্রথমে জমা গ্লুকোজ ব্যবহার করে, এরপর শক্তি জোগানোর জন্য ধীরে ধীরে ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ বেশি খাবার পাকস্থলীতে গেলে তা শরীরের ওপর চাপ তৈরি করে।
ইফতারের সময় সাধারণত আমরা খেজুর, পানি, ফল বা হালকা খাবার খাই। এই খাবারগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে। কিন্তু এর পরপরই ভারী ভাত, মাংস, ভাজাপোড়া খেলে শরীর হঠাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপে পড়ে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার ও রাতের মূল খাবারের মাঝে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা এবং আদর্শভাবে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা বিরতি রাখা উচিত।
Advertisement
অনেকে ইফতারের পরপরই রাতের খাবার খেয়ে ফেলেন, বিশেষ করে যারা দ্রুত ঘুমাতে চান। এতে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে-
পেটে ভারি ভাব গ্যাস ও অম্বল ঢেকুর বা বমিভাব ঘুমের সমস্যা ওজন বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ইফতার ও রাতের খাবারের মাঝে কী করা ভালো?এই ১–২ ঘণ্টার সময়টা শুধু অপেক্ষা করার জন্য নয়, বরং শরীর ও মনের ভারসাম্যের জন্য কাজে লাগানো যায়।
কিছু ভালো অভ্যাস হতে পারে- নামাজ আদায়, হালকা হাঁটা (১০–১৫ মিনিট), পানি পান, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা, হালকা হাঁটা হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
রাতের খাবার কেমন হওয়া উচিত?বিরতির পর রাতের খাবার যেন ভারসাম্যপূর্ণ হয়। এতে থাকতে পারে অল্প পরিমাণ ভাত বা রুটি, সবজি, ডাল, মাছ বা মুরগি, সালাদ। খুব বেশি তেল-মসলা এড়িয়ে চলা ভালো। রাতের খাবার খুব দেরিতে না খাওয়াই ভালো, কারণ ঘুমের অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা উচিত।
Advertisement
রমজানে সুস্থ থাকতে শুধু কী খাচ্ছি তা নয়, কখন খাচ্ছি সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইফতার ও রাতের খাবারের মাঝে অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিরতি রাখলে শরীর স্বাভাবিক ছন্দে হজম করতে পারে, অতিরিক্ত খাওয়া কমে এবং গ্যাস্ট্রিকসহ নানা সমস্যা এড়ানো যায়। রোজার সংযম যেন খাবারের তাড়াহুড়োয় নষ্ট না হয়, সচেতন সময় ব্যবস্থাপনাই হতে পারে সুস্থ রমজানের চাবিকাঠি।
তথ্যসূত্র: সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন
জেএস/