গর্ভাবস্থায় শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে এ সময় যোনিপথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বাভাবিক স্রাবকে কখনোই সাধারণ অস্বস্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
Advertisement
হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী ভ্যাজাইনাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন, যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে মা ও নবজাতক-উভয়ের জন্যই জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে সময়মতো চিকিৎসা ও কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হলে করণীয় ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন কী?নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ভ্যাজাইনাল সংক্রমণের একটি হলো ইস্ট ইনফেকশন। এটি সাধারণত ক্যান্ডিডা অ্যালবিকানস নামের এক ধরনের ছত্রাকের অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে হয়।
মার্ক ম্যানুয়াল প্রফেশনাল এডিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় প্রায় ৩০ শতাংশ নারী এ ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- যোনিপথে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি, ঘন, সাদা রঙের স্রাব, কখনো প্রস্রাব বা সহবাসের সময় ব্যথা-এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Advertisement
গর্ভাবস্থায় ইস্ট্রোজেনসহ বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় যোনিপথের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন আসে। ফলে ছত্রাক সহজে বংশবিস্তার করতে পারে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতার পরিবর্তন, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতিও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসা ছাড়া সংক্রমণ দীর্ঘদিন থাকলে প্রসবের সময় নবজাতকের শরীরেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
নিজে থেকে ওষুধ নয়গর্ভাবস্থায় যোনিপথে চুলকানি বা অস্বস্তি হলেই ফার্মেসি থেকে নিজের মতো করে ওষুধ কিনে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ সব ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসা এক নয়। প্রথমে চিকিৎসক পরীক্ষা করে নিশ্চিত করবেন এটি ইস্ট ইনফেকশন, নাকি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম, সাপোজিটরি বা অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দেবেন। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন গরমে নারীদের শরীরে কী ঘটে? জানুন বিস্তারিত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব দিনভ্যাজাইনাল ইনফেকশন প্রতিরোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। এজন্য যা করবেন-
Advertisement
আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুনগর্ভাবস্থায় শরীরের পানির চাহিদা বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। যদিও শুধু বেশি পানি পান করলেই ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন সেরে যায় না, তবে সুস্থ থাকতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
আরও পড়ুন ওজন বাড়লো, ঝরে গেল চুল তবু হার মানেননি হেনা খাদ্যাভ্যাসেও আনুন পরিবর্তনস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি বেশি খান। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খান, বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি। নিরাপদ ও পাস্তুরিত দুধ থেকে তৈরি টক দই খেতে পারেন। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস বদলেই সংক্রমণের চিকিৎসা সম্ভব নয়। উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন? তীব্র চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের স্রাব প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা জ্বর বা তলপেটে ব্যথা চিকিৎসা নেওয়ার পরও উপসর্গ না কমা আরও পড়ুন এক রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যাবে শরীরে ক্যানসার আছে কি নাগর্ভাবস্থায় যেকোনো সংক্রমণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সময়মতো চিকিৎসা, সঠিক পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং মা ও অনাগত শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়।
তথ্যসূত্র: আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, মায়ো ক্লিনিক, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, মার্ক ম্যানুয়াল প্রফেশনাল এডিশন
জেএস/