বাংলাদেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে হাম। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেড়েছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্ক নয়, বরং সঠিক তথ্য জানা এবং সচেতন থাকাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
Advertisement
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। একবার সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করলে খুব দ্রুত তা আশপাশের অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া। তবে কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কখন বিষয়টি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
সব ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি। হামের জটিলতার মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ। এই জটিলতাগুলোই অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
Advertisement
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা শুধু শিশুকে সুরক্ষিত রাখে না, বরং পুরো সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। কারণ বেশি সংখ্যক শিশু টিকা নিলে ভাইরাসের বিস্তার অনেকটাই কমে যায়।
আরও পড়ুন: যে কর্মসূচি বদলে দিলো দেশের স্বাস্থ্যচিত্র হামের লক্ষণ শুরু হলে কী করবেন? সংক্রমণের সময় ঘর জীবাণুমুক্ত রাখার সহজ উপায় অভিভাবকদের করণীয় কী? সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন। শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা যাচাই করুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসা নিন। জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন। হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। পুষ্টিকর খাবার দিন। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিবেশে থাকা এসব ছোট ছোট অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতার সময়হাম নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ অবশ্যই আছে, কিন্তু অযথা আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বরং সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো পদক্ষেপই পারে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই ভয় নয়, দায়িত্বশীল আচরণই পারে আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে।
বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, গুজব বা ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকা এবং বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুসরণ করা। আপনার একটু সচেতনতাই হতে পারে আপনার সন্তানের সুস্থতার সবচেয়ে বড় ভরসা। কারণ আতঙ্ক নয়, সচেতনতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুরক্ষার আসল শক্তি।
জেএস/
Advertisement