২০২৬ সালে এসেও আমরা এখনো বাল্য বিবাহের আলোচনা থেকে বের হতে পারিনি। এর বিপক্ষে কথা বলতে গেলে আজও বাল্য বিবাহের পক্ষে থাকা একদল মানুষ চরম কটুক্তি করে থাকেন।
Advertisement
ফলে এখনও দেশের অনেক জায়গায় বয়স ১৮ না হতেই কিশোরী কন্যাকে বিয়ে দিচ্ছে পরিবার, আর তার কিছুদিনের মধ্যেই সন্তান - এটাই অনেক বাংলাদেশি কিশোরীর বাস্তবতা। পরিবার বা সামাজিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা দুর্ঘটনার আগে পর্যন্ত চোখে পড়ে না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, কিশোরী বয়সে একজন মেয়ের শরীর এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকে। এই সময় গর্ভধারণ করলে শরীর একসঙ্গে নিজের বৃদ্ধি ও ভ্রূণের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায়। এর ফলে মা ও শিশুর উভয়ের জন্যই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
১. অপুষ্টিঅপুষ্টি এই ঝুঁকির অন্যতম বড় কারণ। কিশোরীদের অনেকেই আগে থেকেই পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। তার ওপর গর্ভধারণ হলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঘাটতি আরও বেড়ে যায়। এতে শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্মানো বা শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
Advertisement
২. রক্তস্বল্পতারক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াও কিশোরী মায়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এতে গর্ভাবস্থায় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, এমনকি প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে, যা জীবনহানির কারণও হতে পারে।
৩. স্বাভাবিক প্রসবে জটিলতাশারীরিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় প্রসবকালীন জটিলতাও বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মা ও শিশুর জন্য বিপজ্জনক।
৪. মানসিক চাপশুধু শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও কিশোরী বয়সে মা হওয়া বড় চাপ তৈরি করে। হঠাৎ করে সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া, নিজের শিক্ষা বা স্বপ্ন থেমে যাওয়া - এসব কারণে উদ্বেগ, হতাশা বা বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে।
৫. শিশুর শারিরীক জটিলতাশিশুর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়। অকাল জন্ম, কম ওজন, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসব শিশুর বিশেষ চিকিৎসা ও যত্নের প্রয়োজন হয়।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে উপযুক্ত বয়সে বিয়ে ও সন্তান নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি কিশোরীদের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিও। তাই সচেতনতা বাড়ানো এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই পারে একটি মেয়ের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/এমএস