সাহিত্য

বৈশাখের উপাখ্যান

মনিরুজ্জামান পলাশ

Advertisement

বিবর্ণ ফুলের মলিনতা নিয়ে কোকিল বসন্ত দিন। চৈত্রের আলপথ ধরে ফিরে যেতে যেতে ধুলো ওড়া দিগন্তে সংক্রান্তির পুঁথি পড়ে। মাঠে মাঠে চৈতালি তখনও তীক্ষ্ণ রোদের আগুনে পোড়ে।

যে বিন্দুতে বসন্ত-দিগন্তে মেঘের অন্তরালে হারায় ঠিক সে পথ ধরেই রুদ্ররোষে তাণ্ডব নৃত্যের তালে এই সবুজ বাংলায় আসে বিক্ষুব্ধ বৈশাখ।

তার আগমনে জাগে নতুনের আবিরমাখা আনন্দধ্বনি-নিস্তব্ধতার বুক চিরে দুরন্ত ঝড়ের গর্জন।

Advertisement

বৃক্ষের শাখায় শাখায়, পত্র-পল্লবে নিমগ্ন স্বপ্নময়তার সংগীত বাজে পবিত্র প্রার্থনার মতো।

জলহীন শুষ্ক নদী ভুলে যায় ব্যর্থতার সবটুকু গ্লানি। প্রতিবেশীর কদর্যপূর্ণ অবহেলায়, কুচক্রী কুটিলতায় মনেই পড়ে না আর তারও বুকে ছিল একদিন বিচিত্র মাছের সংসার ।

মাঝির কণ্ঠে ছিল গান, জেলেদের জালেবয়ে যেত সুখর উত্তাপ। আজ সব বিস্মৃত স্মৃতির ভাড়ার।

তবু বৈশাখ আসেবুকে তার ঝড়ের কাহিনি লেখা অবিনশ্বর শব্দ আখরে।

Advertisement

সেই শব্দের অলিন্দে মিশে থাকেসুতীব্র ভাঙন আর ধ্বংসের বিচূর্ণ বেদনার্ত দীর্ঘশ্বাস।

সেই দীর্ঘশ্বাসের অতল থেকেইমাথা তুলে দাঁড়াতে শেখে সমূহ সম্ভবনার কাঙ্ক্ষিত ইউরেনিয়াম।শক্তির পারদ বৈশাখী বার্তায় ক্রমশ হয় ঊর্ধমুখী।

সেই ঊর্ধমুখী শক্তির সিক্ততায়নতুন সূর্য চারুকলার বকুল তলায় জ্বেলে দেয় সভ্যতার মোহনীয় আলোক উৎসব সে আলোয় চাতকের মত প্রতিক্ষারত বটমূলে।

একঝাঁক শুভ্র পাখি ছড়িয়ে দেয় অমীয় সুরের ধারা।

সে সুরের মূর্ছনায় জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা জীর্ণ পুরাতন কাঁধের ক্লান্তি ঝেড়ে, আবার জেগে ওঠে বাংলার মাটি ও মানুষ নববৈশাখ, অব্যর্থ মন্ত্রে লিখে দেয়।

আমাদের পুনর্জাগরণের এক অনবদ্য উপাখ্যান।

এমএমএফ/এমএস