ফরিদপুর অঞ্চলে নৌ-পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি), বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে সিআইডিতে কর্মরত সুমিত চৌধুরীকে তিরস্কারসূচক লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যের ওপর এই শাস্তি আরোপ করে সরকার।
Advertisement
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
যেসব অভিযোগ এএসপি সুমিতের বিরুদ্ধে
সুমিত চৌধুরী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ২০১৯ সালের ২৯ মে থেকে ২০২০ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত ফরিদপুর নৌ-পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ছিল অভিযানের নামে জেলেদের কাছ থেকে মাছ আত্মসাৎ করে নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া, জাল পুড়িয়ে দেওয়া, নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া এবং নৌকা ফুটো করাসহ জেলেদের গালিগালাজ করা।
Advertisement
আরেকটি অভিযোগ, ২০২০ সালের ২০ মে দৌলতদিয়া কলাবাগান ঘাট থেকে উজ্জ্বল শেখ নামের একজন পান দোকানিকে ধরে স্থানীয় কাশেম মেম্বারের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে অন্য একটি অভিযোগ হলো, ২০২০ সালের ১৫ জুন রাতে কনস্টেবল সোলাইমানের সামনে এবং ২৮ জুন কনস্টেবল জাগাঙ্গীর মোল্লার সামনে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মুন্নাফকে গালিগালাজ করা।
এছাড়া এএসপি সুমিত চৌধুরী প্রায় সময় মদ্যপ অবস্থায় থাকতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০২০ সালের ১০ জুন রাত ১০টার দিকে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িতে এসে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অফিসার ও ফোর্সদের রোলকল ডেকে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগ ওঠে এবং ২০২০ সালের ২ জুলাই রাজারবাগ কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ডোপ টেস্টে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
Advertisement
শুনানিতে এএসপি সুমিত চৌধুরীর বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর মধ্যে সহকর্মীকে গালিগালাজ এবং মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন অভিযোগের গুরুত্ব এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ এএসপি সুমিত চৌধুরীকে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে অভিযোগের সামগ্রিক বিবেচনায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার দেওয়া হয়েছে।
টিটি/এএমএ