দেশজুড়ে

যন্ত্র সংকটে ধুঁকছে বিশেষায়িত ইউনিট, সেবা পাচ্ছে না নবজাতক

১২টি ইনফ্যান্ট ওয়ার্মারের মধ্যে চারটিই পড়ে আছে। নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় সবগুলো সাকার মেশিন ও স্ট্যাবিলাইজার। এ অবস্থায় চলছে চিকিৎসা। ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (স্ক্যানু) এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।

Advertisement

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবজাতকের অকাল মৃত্যু রোধ এবং অসুস্থ শিশুদের জীবন রক্ষায় ২০২২ সালে ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চালু করা হয় ১২ শয্যাবিশিষ্ট স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (স্ক্যানু)। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির বিকল থাকায় এ ইউনিটের সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত কয়েক মাস ধরে ইউনিটটিতে জীবনরক্ষাকারী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে সরকারিভাবে বিনা খরচে উন্নত সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

‘জন্মের পরপরই যেসব নবজাতকের ওজন কম, জন্ডিসে আক্রান্ত, খিঁচুনি, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতা ভোগে, তাদের বিশেষ এ ইউনিটের ইনফ্যান্ট ওয়ার্মারে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তবে ইউনিটটিতে ১২টি ইনফ্যান্ট ওয়ার্মারের মধ্যে চারটিই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে মাত্র আট নবজাতককে এ ইউনিটে সেবা দেওয়া হচ্ছে’

Advertisement

জন্মের পরপরই যেসব নবজাতকের ওজন কম, জন্ডিসে আক্রান্ত, খিঁচুনি, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতা ভোগে, তাদের বিশেষ এ ইউনিটের ইনফ্যান্ট ওয়ার্মারে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তবে ইউনিটটিতে ১২টি ইনফ্যান্ট ওয়ার্মারের মধ্যে চারটিই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে মাত্র আট নবজাতককে এ ইউনিটে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, মেশিনের বৈদ্যুতিক লোড নিয়ন্ত্রণে ১২টি ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজারের ১১টিই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এগুলো নষ্ট থাকায় সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইনে ইনফ্যান্ট ওয়ার্মার মেশিন চালাতে হচ্ছে। এতে করে যে কোনো সময় বাকি ওয়ার্মার মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নবজাতকের মুখে আটকিয়ে থাকা কফ, লালা এবং ময়লা পরিষ্কারের জন্যে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটের ১২টি সাকার মেশিনের মধ্যে ১১টিই নষ্ট হয়ে গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটে যন্ত্রপাতির শয্যা ও মেশিন সংকটের কারণে অসুস্থ অনেক নবজাতককে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে চড়া মূল্যে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রের অভাবে নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের ৫ জনে ১ জন ‘মডি’তে আক্রান্ত: গবেষণাঅর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনাকালীন অনুদান দুজনের পকেটেফোড়া অপারেশনে ‘রক্তক্ষরণ’ দেখে পালালেন চিকিৎসক, পরে রোগীর মৃত্যুসরাইলের হাসপাতাল নিজেই রোগীর মতো: রুমিন ফারহানারোগীর চাপ চারগুণ বেড়েছে খুলনা শিশু হাসপাতালে

Advertisement

হাসপাতালে কথা হয় সরাইলের বাসিন্দা আলী হোসেনের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমার মেয়ের কয়েকদিন আগে হাসপাতালে ডেলিভারি হয়েছে। নবজাতক নাতির ওজন খুবই কম হয়। অনেক দুর্বল। ডাক্তার স্ক্যানুতে রেখে চিকিৎসা দিতে বলেছেন। কিন্তু সদর হাসপাতালে মেশিন কম। যেগুলো আছে সেগুলোতে চিকিৎসা চলছিল। তাই তাকে বাইরে একটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন খরচ হচ্ছে সাত হাজার টাকা।’

‘নবজাতক নাতির ওজন খুবই কম হয়। অনেক দুর্বল। ডাক্তার স্ক্যানুতে রেখে চিকিৎসা দিতে বলেছেন। কিন্তু সদর হাসপাতালে মেশিন কম। যেগুলো আছে সেগুলোতে চিকিৎসা চলছিল। তাই তাকে বাইরে একটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন খরচ হচ্ছে সাত হাজার টাকা’—রোগীর স্বজন

আরিফা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘আমার বাচ্চাটির জন্মের পর জন্ডিস ধরা পড়ে। তাকে এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাইরে নাকি অনেক খরচ হতো। আমার তো খরচ করার মতো টাকা-পয়সা নেই।’

এক রোগীর স্বজন শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে ভালো সেবা দেওয়া হয়। তবে এত বড় একটি হাসপাতালে মেশিন খুবই কম। তার মধ্যে বেশিরভাগই নষ্ট। মেশিন সংখ্যা বাড়ানো উচিত।’

মেশিন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন ২৫০ শয্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালি।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্ক্যানুতে ১২টি শয্যার বিপরীতে রোগীর চাপ অনেক বেশি। এরমধ্যে চারটি ওয়ার্মার নষ্ট আছে। এগুলো মেরামত করতে ইউনিসেফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।’

সাকার মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডা. রতন কুমার। তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। কিন্তু আমরা যত দ্রুত রেসপন্স চাই, তা দেওয়া সম্ভব হয় না।’

এসআর/জেআইএম