আইন-আদালত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে পলকের নির্দেশেই বন্ধ হয় ইন্টারনেট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ওই কর্মকর্তা। তবে মামলার বিচার ও সাক্ষীর নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম প্রকাশ না করতে প্রসিকিউশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। এ মামলায় পলক ছাড়াও আসামি হিসেবে আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

Advertisement

জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ফোন করেন বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ফোনে জানান, বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ওই নির্দেশনা আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে সাক্ষীকে নির্দেশ দেন কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর দিয়ে গ্রুপ খোলেন তিনি। ইংরেজিতে খোলা গ্রুপটির নাম ছিল ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। আইটিসি অপারেটরদের প্রতিনিধিরা এর সদস্য ছিলেন।

সাক্ষী আদালতে জানান, সেই গ্রুপে যুক্ত ছিলেন কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটিডের খালিদ, ফাইবার এটহোমের মশিউর, নভোকমের আজিজ, বিডি লিংকের একজন, ম্যাংগোর জাহিদ, বিটিসিএলের আনোয়ার মাসুদ ও বিএসপিএলসির ওহাব। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি খোলার পর এতেই মহাপরিচালককে তা জানান বিটিআরসির এই কর্মকর্তা। এরপর কাজী মোস্তাফিজুর রহমান গ্রুপে কল দেন।

তিনি গ্রুপ কলে আইটিসি অপারেটরদের আপস্ট্রিম বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা অবহিত করেন। পরে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আনুমানিক রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Advertisement

সাক্ষী আরও বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরদের সমন্বয়ে পূর্বে গঠিত একটি গ্রুপে তৎকালীন মহাপরিচালক আমাকে একটি এসএমএস করার নির্দেশনা দেন। এসএমএসটি ছিল, ‘As per the instruction I am directed to inform you to shutdown the internet from your IIG and send done after completion.’ এই এসএমএস ইন্টারনেট বন্ধ করার পূর্বেই নির্দেশিত হয়ে অবহিত করা হয়।’

এরপর ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। ১৮ জুলাই রাত ৯টা থেকে ২৩ জুলাই বিকেল পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সাক্ষী।

বিটিআরসির কর্মকর্তা জানান, ২৩ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে ও মিডিয়ার বিভিন্ন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সভা ডাকেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক। সভায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক বন্ধ রেখে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে, যেমন ব্যাংক, সংসদ ভবন, ক্যান্টনমেন্ট ইত্যাদিতে সীমিতভাবে ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার নির্দেশনা দেন পলক।

আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, শেখ মইনুল করিম ও সুলতান মাহমুদ। আসামিপক্ষে ছিলেন লিটন আহমেদ। অন্যদিকে, আরেক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

এফএইচ/একিউএফ