দেশজুড়ে

জ্বালানির অভাবে দুর্ভোগ চরমে, পাম্পে দীর্ঘ সারি

রাজবাড়ীতে কাটছেই না জ্বালানি তেলের সংকট। গত দুইদিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর পেট্রোল পাম্পে তেল আসার খবরে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকসহ সাধারণ মোটরসাইকেলের চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও নিয়মিত ও চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ীর কাজী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কৃষক, বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেল চালকদের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গতকাল রাজবাড়ীর কোনো পাম্পে তেল দেওয়া হয়নি। ভোর থেকে সারিতে ৩-৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল পাননি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় যেমন কাজের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি মিলছে না প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল। এতে কৃষি কাজসহ লোকাল ও দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল এবং পেশাগত বিভিন্ন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে দৈনন্দিন সব কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল থেকে তেল সরবরাহ শুরু হলেও ভোর থেকেই পাম্প প্রাঙ্গণসহ সড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। সারিতে রয়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। ফলে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাজবাড়ী জেলা শহরের তিনটি পেট্রোল পাম্পের একটিসহ জেলার মাত্র কয়েকটি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ট্যাগ অফিসারসহ জেলা পুলিশ সদস্যরা।

Advertisement

বাসচালক মাইনউদ্দিন জানান, গাড়িতে তেল না থাকায় গত দুই দিন রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া রোডে গাড়ি চালাতে পারেননি। আজ ভোর ৪টা থেকে তেলের সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। বর্তমান যে সারি, তাতে শেষ পর্যন্ত তেল পাবেন কি না তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। নিয়মিত তেল না পাওয়ায় নিয়মিত ‘ট্রিপ’ মারতেও পারছেন না তিনি।

কৃষক খলিল সরদার বলেন, আমি ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করি। তিনটি শ্যালোসহ চারটি মেশিন আছে আমার। তেলের অভাবে সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দিনে অন্তত ১০ লিটার তেল প্রয়োজন, কিন্তু সেখানে পাচ্ছি অনেক কম। আজ তিন দিন ধরে তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। এক সপ্তাহ ঠিকমতো তেলের জোগান পেলে ধান ও পাটে পানি দেওয়া হয়ে যেত।

মাহেন্দ্র চালক ইসমাইল হোসেন জানান, পাম্পে যে পরিমাণ বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ভিড়, তাতে গাড়ি নিয়ে ঢোকা সম্ভব হয়নি। তাই ড্রামে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা পার হলেও তেলের দেখা পাননি। দীর্ঘ সময় পর মাত্র ৩০০ টাকার তেল পাবেন, যা দিয়ে সারাদিন চলা অসম্ভব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “সরকার বলে দেশে তেলের সংকট নেই, তাহলে কেন এত দীর্ঘ সারি? নিয়মিত তেল না পেলে গাড়ি চলবে না, আর গাড়ি না চললে পেটের ভাত জুটবে না।

রুবেলুর রহমান/এমএন/জেআইএম

Advertisement