আহত এক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
Advertisement
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবাদ জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শাহরুখ হোসেন। তিনি ওই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ঠোঁটে গুরুতর আঘাত পান শাহরুখ। পরে সহপাঠীরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রাবির চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সহপাঠীরা তাকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে গেলেও তাদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে যায়।
Advertisement
পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রাকসু প্রতিনিধিদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় চিকিৎসা কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ ছিল।
এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় ছিলেন, তার ঠোঁট দিয়ে অনবরত রক্তপাত হচ্ছিল। তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে শুধু টিস্যু দিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে যেতে বলা হয়। যদি এখানে চিকিৎসা সম্ভব না হয়, তাহলে নির্দিষ্টভাবে কোথায় যেতে হবে তা বলা উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। আমাদের দাবি, চিকিৎসা কেন্দ্রটি প্রকৃত মেডিকেল সুবিধাসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি চালু রাখা উচিত নয়।
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বিন আজমাইল বলেন, রাবির চিকিৎসা কেন্দ্র নামমাত্র একটি সেবা কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একজন আহত শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম চিকিৎসা না দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া দুঃখজনক। যদি প্রাথমিক চিকিৎসাও দিতে না পারে, তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকাই ভালো।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবার মান উন্নত করতে হবে, যাতে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
Advertisement
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনার কথা শুনেই আমি চিকিৎসা কেন্দ্রে এসেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই বিষয়টির সমাধান করা যাবে।
চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, আমি ছুটিতে আছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তারা চিকিৎসা কেন্দ্রে তালা দিয়েছেন। উপাচার্যের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই বিষয়টি সমাধান করা হবে।
মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/এএসএম