শিক্ষা

আগামী বছর সঠিক সময়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হবে: ববি হাজ্জাজ

গত বছরের (২০২৫ সালের) প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা যথাসময়ে নিতে পারেনি সরকার। শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার প্রায় চারমাস পর এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীর বিপাকে পড়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা এবং বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে হচ্ছে তাদের। আগামী বছর এ সংকট আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

Advertisement

তিনি বলেন, এবারের বৃত্তি পরীক্ষা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে পরীক্ষাটি তারা নিতে পারেননি। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এ প্রক্রিয়াটা আমরা বাদ দিতে চাই না। তাই আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই এবং বাস্তবায়ন করছি। আগামী বছরগুলোতে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, কতজন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বৃত্তির পরিমাণ কত হবে- তা পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুনসব ধরনের সরকারি শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ হচ্ছে সব শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে আনাই আমাদের লক্ষ্য: ববি হাজ্জাজ 

বৃত্তিকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থান। শুধু বৃত্তি না, সার্বিকভাবে কোচিং আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। এটি একটি বড় সমস্যা। কোচিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ কিছু ইনোভেশন বা পলিসি চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিগগির পাইলটিং শুরু হবে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি সংক্রান্ত কোচিং নিয়ে এখনো বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প যেমন- দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট এবং পিডিপি ফাইভ হাতে নিয়েছে; যার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, ওয়াশরুম নির্মাণ, ডিজাইন পরিবর্তন এবং ফার্নিচার পরিবর্তনের মতো বড় কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি, সচিব এবং মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় সঠিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া গেছে।

Advertisement

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান প্রমুখ।

এএএইচ/কেএসআর