মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে - এই চিন্তাটাই অনেকের জন্য অস্বস্তিকর। হাত কাঁপে, গলা শুকিয়ে যায়, মাথা ফাঁকা হয়ে যায়। অথচ ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে কোনো সমস্যা হয় না।
Advertisement
এই ভয়কে অনেকেই নিজের দুর্বলতা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবে এটি খুবই সাধারণ একটি মানসিক প্রতিক্রিয়া, যাকে বলা হয় গ্লসোফোবিয়া বা জনসমক্ষে কথা বলার ভয় বা মঞ্চভীতি। সঠিক প্রস্তুতি ও কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই ভয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
কেন এই ভয় হয়?জনসমক্ষে কথা বলা বা পাবলিক স্পিকিংয়ের সময় মস্তিষ্ক পরিস্থিতিটিকে মূল্যায়নের মুহূর্ত হিসেবে ধরে নেয়। তখন মনে হয় - ভুল বললে মানুষ কী ভাববে? এই ভাবনা থেকেই স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয় এবং মনোযোগে সমস্যা তৈরি হয়।
সবসময় এটি ফোবিয়া না হয়ে সাধারণ নার্ভাসনেসও হতে পারে। তবে চিন্তা নেই, সমাধানও আছে।
Advertisement
১. প্রস্তুতিতে ফাঁকি দেবেন নাযত বেশি প্রস্তুতি নেবেন, তত বেশি আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন - আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।
২. ছোট পরিসরে অনুশীলন করুনপ্রথমেই বড় মঞ্চে না গিয়ে বন্ধু বা পরিবারের সামনে প্র্যাকটিস করুন। ধীরে ধীরে পরিসর বাড়ান।
৩. নিজের ওপর চাপ কমানপারফেক্ট হতে হবে - এই চাপই অনেক সময় ভয় বাড়ায়। ছোট ভুল স্বাভাবিক, এটিকে গ্রহণ করুন।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুনস্টেজে ওঠার আগে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। এতে শরীর ও মন দুটোই কিছুটা শান্ত হয়।
Advertisement
৫. শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করুনশ্রোতাদের প্রতিপক্ষ না ভেবে সহযোগী হিসেবে দেখুন। তাদের সঙ্গে চোখের যোগাযোগ রাখলে ভয় কমে যায়।
৬. নিজেকে ইতিবাচকভাবে ভাবুনআমি পারব না - এই ভাবনার বদলে, আমি প্রস্তুত - এই চিন্তাটি তৈরি করুন। মস্তিষ্ক এই সংকেত অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ভয় কি পুরোপুরি দূর হবে?অনেকের ক্ষেত্রেই ভয় পুরোপুরি চলে যায় না, তবে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। অভ্যাস বাড়লে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে, আর সেই ভয় ধীরে ধীরে কমে যায়।
পাবলিক স্পিকিংয়ের ভয় কোনো দুর্বলতা নয় - এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে এটিকে এড়িয়ে না গিয়ে ধীরে ধীরে মোকাবিলা করলে, এক সময় এটিই আপনার শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ
এএমপি/এএসএম