খেলাধুলা

মঞ্জুরুলের শাস্তিতে সন্তুষ্ট নন জাহানারা, জানালেন তিন দাবি

যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তের পর তাকে দেশের ক্রিকেটের কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে সেই শাস্তিতে সন্তুষ্ট নন অভিযোগ করা জাতীয় দলের পেসার জাহানারা আলম। প্রধান অভিযুক্তের পাশাপাশি তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জাহানারা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, মিস্টার মঞ্জুকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ, আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি আমার কাছে খুব সামান্য মনে হয়েছে। আমি আরও অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম।’

জাহানারা জানান, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন,‘(আমাকে) সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি আমাকে চরম পর্যায়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

এ ঘটনায় শুধু মঞ্জুর নয়, তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও বিচার দাবি করেছেন জাহানারা। তিনি বলেন, ‘তৌহিদ মাহমুদ (নারী দলের সাবেক ম্যানেজার) তো মারা গেছেন, মঞ্জুর সামান্য শাস্তি হয়েছে। কিন্তু তার এই সহযোগী গ্রুপের তো কোনো বিচার হয়নি, শাস্তিও হয়নি।’

Advertisement

ভিডিও বার্তায় নারী দলের সাবেক প্রধান কোচ আবদুর রাজ্জাকের কিছু মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন এই পেসার। জাহানারা বলেন,‘তিনি (আবদুর রাজ্জাক) আবারও মন্তব্য করেন তার ভাই মিস্টার মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না। তিনি মন্তব্য করেন যে নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন।’

ভিডিও বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছেও তিনটি দাবি তুলে ধরেন জাহানারা। তিনি বলেন, ‘মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর পর অন্য অঙ্গনের কিছু ক্রীড়াবিদও একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।’

জাহানারার মতে, এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে না। এ ছাড়া নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের সেফগার্ডিং নীতি প্রণয়নের জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এসকেডি/আইএন

Advertisement