ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য, সুগন্ধ ও রঙের এক অপূর্ব আধার। গোলাপি ও গাঢ় লাল রঙের আভায় পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে বাংলার নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে ক্যাসিয়া জাভানিকা, যা লাল সোনাইল বা লাল সোনালু নামে পরিচিত ফুল। যার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাসিয়া জাভানিকা। বৈশাখের শুরুতেই এই দুর্লভ ও দৃষ্টিনন্দন ফুলটি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে মুগ্ধতা।
Advertisement
এই ফুলের আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। পৃথিবীতে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাগানে উদ্ভিদ হিসেবে এর জন্ম। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে এ ফুল ফোটে। তবে বিভিন্ন দেশে জলবায়ুভেদে এর ফোটার সময় ভিন্ন হয়ে থাকে।
লাল সোনাইলের পাশাপাশি ফুটেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সাদা রঙের উলু ফুল, যা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে। এই দুই ফুলের নজরকাড়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন বিকেলে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে ক্যাম্পাসে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পেছনে ও স্বাধীনতা স্মারকের পূর্ব পাশে অপরূপ সৌন্দর্যের শোভা ছড়াচ্ছে লাল সোনাইল ফুল। এছাড়াও ক্যাম্পাসের ভিসি মাঠ, গ্যারেজ মাঠ, কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশ এবং স্বাধীনতা স্মারক মাঠে সাদা উলু ফুল ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।
Advertisement
কবি লেখক ও গবেষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে নানা ধরনের ফুল, ফল ঔষধি গাছ রয়েছে। তবে বৈশাখের এই দুটি ফুল দেখতে নান্দনিক ও নজরকাড়া। লাল সোনাইল এবং সাদা ঘাস ফুল। এ ফুল দুটি যেন বৈশাখের রং ও আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। লাল সোনাইল দেখে যেন মনে হয়ে কোনো পরী আকাশে উড়ছে। সবুজের মাঝে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করছে। দুর্লভ বলেই কি তার এতো কদর ও সৌন্দর্য তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অন্যদিকে ঘাসফুলের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সাদা রঙের যেমন কদর আলাদা তেমনি এ সাদা উলু ফুল প্রকৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’
বেরোবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবেশবাদী ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘লাল সোনাইল দারুণ দৃষ্টিনন্দন ফুল। এ ফুলের প্রাচুর্য যে কারো নজর কাড়ে খুব সহজে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি লাল সোনাইলের গাছ আছে। আমরা যে চার শতাধিক প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করেছি লাল সোনাইল তার অন্যতম। প্রতিবছর এই ফুল দেখতে অনেক দর্শনার্থী আসেন। এবছরও ফুলটি ফুটতে শুরু করেছে। ফুলপ্রেমীদের এবারও মুগ্ধ করবে লাল সোনাইল।’
আরও পড়ুনপহেলা বৈশাখে মিষ্টিমুখ, ক্রেতা-বিক্রেতার বন্ধন টিকে আছে যুগ যুগ ধরেগ্রামবাংলার ঐতিহ্য হারিকেন-কুপিবাতির অতীতআজিজুর রহমান/কেএসকে
Advertisement