গরমের দিনে এসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেকের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় দীর্ঘ সময় এসি চালু রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে এর ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান।
Advertisement
ভালো খবর হলো কিছু সহজ অভ্যাস ও সঠিক সেটিং ব্যবহার করলে আপনি আরামদায়ক ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রেখেও বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমাতে পারেন।
১. সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন করুনঅনেকেই এসি ১৬-১৮ ডিগ্রিতে চালিয়ে রাখেন দ্রুত ঠান্ডা পাওয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবে এত কম তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না। ২৩ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা সেট করলে ঘর আরামদায়ক থাকে এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপও কম পড়ে। এতে বিদ্যুৎ খরচ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।
২. স্লিপ মোড ব্যবহার করুনরাতে ঘুমানোর সময় এসির স্লিপ মোড খুবই কার্যকর। এই মোড চালু করলে এসি ধীরে ধীরে তাপমাত্রা সামঞ্জস্য করে এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা হওয়া বন্ধ করে। ফলে রাতের শেষ দিকে ঘর খুব বেশি ঠান্ডা লাগে না, আবার এসিও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি সময় কাজ করে না যার ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
Advertisement
যদি স্লিপ মোড না থাকে, তাহলে টাইমার অপশন ব্যবহার করতে পারেন। ঘুমানোর পর ৩–৫ ঘণ্টা পর এসি বন্ধ হওয়ার মতো করে সেট করে দিলে সারা রাত চালু রাখার প্রয়োজন পড়ে না। এতে আপনি প্রথম দিকের আরামদায়ক ঠান্ডা পাবেন, কিন্তু পরের সময়টাতে বিদ্যুৎ অপচয় হবে না।
৪. ফ্যানের সাহায্য নিনএসির সাথে সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস পুরো ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এসিকে কম পরিশ্রম করতে হয় এবং দ্রুত ঘর ঠান্ডা হয়। ফলে একই আরাম পাওয়া যায়, কিন্তু বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়।
৫. দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখুনঘরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে এসিকে বারবার কাজ করতে হয়। তাই এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা জরুরি। এতে ঠান্ডা বাতাস আটকে থাকে এবং ঘর দ্রুত ও দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে।
৬. নিয়মিত পরিষ্কার ও সার্ভিসিং করুনধুলো জমে গেলে এসির ফিল্টার ব্লক হয়ে যায়, ফলে একই ঠান্ডা পেতে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা এসি কম শক্তিতে বেশি কার্যকরভাবে কাজ করে।
Advertisement
কেএসকে