জাতীয়

তেলের দাম বাড়ায় রাইডশেয়ারের মোটরসাইকেলে বেড়েছে ভাড়া

রাজধানীতে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ে যাতায়াত এখন অনেকের জন্যই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরপরই বেড়েছে ভাড়া, কমেছে দরকষাকষির সুযোগ। ফলে স্বল্প দূরত্বের যাত্রাও এখন নগরবাসীর জন্য বাড়তি খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

১৫০ টাকার ভাড়া এখন ২০০রাজধানীর মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা হাসান আলী রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ব্যক্তিগত কাজে বাড্ডা লিঙ্ক রোড থেকে পুরানা পল্টন যেতে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং নিতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। নিয়মিত যাতায়াতের অভিজ্ঞতায় তিনি ভাড়া ১৫০ টাকা বললেও চালক ২০০ টাকার নিচে যেতে রাজি নন।

একই পথে আরও কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বললেও কেউ ২০০, কেউ ২২০ টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে ২০০ টাকায়ই যাত্রা শুরু করেন তিনি।

তেলের দাম বাড়তেই ভাড়ায় ‘চেইন রিঅ্যাকশন’

Advertisement

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার আজ থেকে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে বিজ্ঞপ্তিতে এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা করে বেড়েছে।

এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরের পরিবহন খাতে। জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনে এই মূল্য সমন্বয়ের পরপরই বাজারে ভাড়ার চাপ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

এলাকাভেদে ভাড়া বেড়েছে

Advertisement

মাঠপর্যায়ের খোঁজে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বল্প দূরত্বে মোটরসাইকেল ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগের ভাড়ায় এখন আর কোনো চালক গন্তব্যে যেতে রাজি হচ্ছেন না। যাত্রীদের দরকষাকষির সুযোগও কমে গেছে। বিশেষ করে অফিস সময় ও ব্যস্ত এলাকায় ভাড়া আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনসরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে টোল বসাতে পারে, কী বলে আন্তর্জাতিক আইন? 

তেলই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় আব্দুর রহমান নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, পাম্পে আগের মতো তেল পাওয়া যায় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে তেল পাই, কয়েকটি ট্রিপেই শেষ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ট্যাংকে পর্যাপ্ত তেল না থাকলে মাঝপথে মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে- এই ভয়ও আছে। তাহলে ভাড়া না বাড়িয়ে উপায় কী?

সংকট শুধু দামে নয়, সরবরাহেও

চালকদের অভিযোগ, শুধু দামই বাড়েনি, তেলের সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দাম বাড়ানোর পরও বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চালকদের মধ্যে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ

মোটরসাইকেলভিত্তিক রাইড দ্রুত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হলেও ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তা অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে দৈনিক যাতায়াত ব্যয় বাড়বে, বিকল্প পরিবহন খুঁজতে হবে এবং সর্বোপরি সময় ও ভোগান্তি বাড়বে।

কেন দ্রুত বাড়ে ভাড়া?

একাধিক মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মোটরসাইকেলভিত্তিক পরিবহন খাতে ভাড়া দ্রুত বাড়ার পেছনে যে কয়েকটি কারণ কাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে- জ্বালানির ওপর সরাসরি নির্ভরতা, সরবরাহে অনিশ্চয়তা, তাৎক্ষণিক বাজার প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা।

সার্বিক বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়- এটি নগর জীবনের দৈনন্দিন চলাচল ও ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। মোটরসাইকেলভিত্তিক পরিবহন খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে দ্রুত দৃশ্যমান হয়েছে।

এমইউ/কেএসআর