দেশজুড়ে

সরবরাহ বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি তেল পাম্পে

চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এর মধ্যে ফুয়েল কার্ড ও কৃষি কার্ড ছাড়াই তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈধ গ্রাহকরা।

Advertisement

শনিবার (১৮ এপ্রিল) জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। সাধারণ লাইনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি চাকরিজীবী ও সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত জরুরি সেবার লেনেও ভিড় করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এতে ওই লেনের কার্যকারিতা প্রায় ভেঙে পড়েছে।

শহরের একাডেমি মোড় এলাকার মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ লাইন রেললাইন ছাড়িয়ে গেছে। জরুরি লেনেও শত শত মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সড়কের পাশে গাড়ির চাপ থাকায় জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক জমির হোসেন বলেন, শুনছি তেলের সংকট নেই, কিন্তু পাম্পে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকে দ্রুত তেল নিতে জরুরি লাইনে ঢুকে পড়ছে। এতে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। আবার ফুয়েল কার্ড ছাড়াই অনেককে তেল নিতে দেখা যাচ্ছে, যা ঠিক না।

Advertisement

সরেজমিনে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যানসহ অনেকেই জরুরি সেবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে করে ওই লাইনও দীর্ঘ হচ্ছে এবং প্রকৃত জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, হঠাৎ করে গ্রাহকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন বলে দাবি তাদের।

চুয়াডাঙ্গা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম তসলিম আরিফ বাবু বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে ডিপো থেকে তেলের বরাদ্দ বেড়েছে। কয়েকদিন আগে ডিপো থেকে কম তেল পাওয়া গেলেও এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার জেলার চার উপজেলায় মোট ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ লিটার, পেট্রোল ৪৯ হাজার ৫০০ লিটার এবং অকটেন ২০ হাজার লিটার।

Advertisement

এদিকে আজ রোববার জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ৭ হাজার লিটার, পেট্রোল ২৮ হাজার ৫০০ লিটার এবং অকটেন ২ হাজার লিটার সরবরাহের কথা রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিএম তারিক উজ জামান বলেন, প্রতিটি পাম্প ও এজেন্সি (ডিলার পয়েন্টে) ফুয়েল কার্ড দেখে তেল দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত তদারকি করছেন। এছাড়া অনিয়ম হলে তারা অভিযান পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও জানান, সেই অর্থে জ্বালানি সংকট নেই। তাছাড়া আমরা কৃষকদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তারা যেন দ্রুত জ্বালানি পান, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এর আগে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে জরুরি সেবার আওতায় পুলিশ ও চিকিৎসকসহ অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা একটি লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, জরুরি সেবার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকেও একটা নির্দেশনা আছে। এই ব্যবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কার্যকর রয়েছে।

হুসাইন মালিক/এফএ/এমএস