অর্থনীতি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো আইএমএফের শর্ত নয়: অর্থমন্ত্রী 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

Advertisement

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, তেলের দাম বাড়ানো আইএমএফের শর্ত নয়।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আইএমএফের শর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং অনেক দেশ আগেই দাম সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় দাম না বাড়িয়ে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তবে সরকারের তহবিলের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

Advertisement

তিনি দাবি করেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনআইএমএফ’র সঙ্গে আলোচনা চলমান, সব শর্তে একমত নাও হতে পারে সরকারআইএমএফের কিস্তি নিয়ে হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রীবাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর

মুদ্রাস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, এমন সরল সমীকরণ সবসময় প্রযোজ্য নয়। এটি সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার যদি জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারে, তাহলে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব।

আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান আলোচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

Advertisement

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থার আলোচনা চলছে। এসব সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এখনো শেষ হয়নি, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই আলোচনায় শুধু ঋণের পরিমাণই মূল বিষয় নয়, বরং উভয়পক্ষের চাওয়া-পাওয়া ও শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়। এটি কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয় বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ব্যবসায়িক লেনদেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই এমন কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের জনগণ, অর্থনীতি বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

আইএমএফের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল এবং এতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য নয়। যেসব শর্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো গ্রহণ করা হবে না।

তিনি জানান, কর্মসূচিটির মেয়াদ আরও ছয়-সাত মাস রয়েছে। এরপর ভবিষ্যতে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্তও সরকার নিজেই নেবে।

শর্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন করে।

তিনি আরও জানান, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এসব সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।

সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক দিকেই সামঞ্জস্য রয়েছে। অতীতে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সরকার নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে, যেন সুশাসন নিশ্চিত হয় এবং জনগণ উপকৃত হয়।

অতিরিক্ত বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলেই আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আলোচনা শেষ হওয়ার পরই নির্ধারিত হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। আলোচনা যেখানে গিয়ে দাঁড়াবে, সেখান থেকেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো, এটা সম্পূর্ণ আমাদের সিদ্ধান্ত।

এমএএস/ইএ