দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পরবর্তী নির্বাচনের আগেই একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করে এই দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল।
Advertisement
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ী প্রশাসক হিসেবে একজনের নামও প্রস্তাব করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্বাচন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে সংগঠন পরিচালনার জন্য একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে প্রশাসক করা হলে সদস্যদের আস্থা বজায় থাকবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী যোগাযোগও সহজ হবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা, বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাস্তবতা বুঝতে ব্যবসায়ী প্রশাসকের বিকল্প নেই।
সূত্রটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এস এম ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
Advertisement
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে রোববার (১৯ এপ্রিল) বৈঠক করেছে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল/ছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি দলে ছিলেন— এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারীজ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন রাজেশ, সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, সৈয়দ বখতিয়ার, হাজি মো. আবুল হাশেম, নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, আব্দুল হক, আব্দুল ওয়াহেদ, ড. পারভেজ সাজ্জাদ আকতার, মো. আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, আলহাজ মো. বজলুর রহমান এবং খন্দকার রুহুল আমিন।
আরও পড়ুনরাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ বাড়াতে এফবিসিসিআই’র একগুচ্ছ প্রস্তাবব্যবসায়ীদের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এফবিসিসিআইকে দেখতে চাইএফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ইউসুফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাএফবিসিসিআইয়ে প্রশাসক নিয়োগ
বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদ সদস্য সাঈদা আক্তার, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) জেনারেল সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ মজুমদার, চারকোল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া।
Advertisement
‘বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা দ্রুত এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন এবং একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আমরা আশা করছি, দ্রুত একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে চলতি বছরেই এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব।’—বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক
সূত্রটি জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীকে জানান, এফবিসিসিআই দেশের বেসরকারি খাতের সর্বোচ্চ প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় এর নেতৃত্বে এমন কাউকে প্রয়োজন, যিনি সরাসরি ব্যবসার বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত। প্রশাসক হিসেবে একজন আমলাকে নিয়োগ দিলে সংগঠনের কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি পায় না। তাই এফবিসিসিআইতে দ্রুত একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা উচিত।
ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্বাচন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে সংগঠন পরিচালনার জন্য একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে প্রশাসক করা হলে সদস্যদের আস্থা বজায় থাকবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী যোগাযোগও সহজ হবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা, বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাস্তবতা বুঝতে ব্যবসায়ী প্রশাসকের বিকল্প নেই।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি মূল্য, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজস্ব চাপসহ নানা ইস্যুতে ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এফবিসিসিআই নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সংগঠনটির নেতৃত্ব ঠিক করতে সরকার নির্বাচন দিতে চায়। সরকার চায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন থাকে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা না আসে সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এক প্রকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনগুলোর পরিচালনা পর্ষদ। আত্মরক্ষার জন্য সংগঠনগুলোর নেতারা সরে গেলে প্রশাসক বসায় সরকার। প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। এ প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে বেশকয়েকটি বাণিজ্য সংগঠনে নির্বাচন হয়েছে এবং নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতারা দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে এখনো নির্বাচন হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এফবিসিসিআই নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সংগঠনটির নেতৃত্ব ঠিক করতে সরকার নির্বাচন দিতে চায়। সরকার চায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন থাকে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা না আসে সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
পটপরিবতনের পর এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার দায়িত্ব ছিল ১২০ দিনের মধ্যে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। কিন্তু তিনি সে কাজ করতে ব্যর্থ হন। এরপর কয়েক দফা প্রশাসকের মেয়াদ বাড়ানো হয়। দায়িত্বকালে একাধিকবার হাফিজুর রহমানের প্রশাসন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েও তা সম্পন্ন করতে পারেননি।
ফাইল ছবি
হাফিজুর রহমানের পর গত বছরের নভেম্বরে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খানকে। তার দায়িত্বও ছিল ১২০ দিনের মধ্যে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। কিন্তু তিনিও সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম ১২০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে আবারও ১২০ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতেই এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি ওঠানো হলো।
‘বৈঠকে আমরা এফবিসিসিআিই নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছি। এফবিসিসিআিই প্রশাসক দিয়ে চলছে কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে না। এছাড়া কিছু আইন-কানুন নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছি, আমলাদের না দিয়ে, একজন ডাইনামিক ব্যবসায়িক লিডারকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। যদি একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে উনি সাধারণ ব্যবসায়ী যারা আছে সবার সঙ্গে কথা বলে একটা সুন্দর নির্বাচন দিতে পারবেন। একটা সুন্দর নির্বাচন যাতে হয়, এটিই মূল আলোচনা ছিল।’— হাজি মো. আবুল হাশেম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আব্দুল হক জাগো নিউজকে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা দ্রুত এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন এবং একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আমরা আশা করছি, দ্রুত একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে চলতি বছরেই এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা সম্ভব।
একজন ব্যবসায়ী প্রশাসক ছাড়া কি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সম্ভব, তবে সরকারি লোকেরা ভেতরের গভীরতর সমস্যা বুঝতে পারেন না। তাদের এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের অভিজ্ঞতাও নেই। প্রায় দুই বছর হতে চললো এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এটা চরম ব্যর্থতা। এতে ব্যবসা খাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারবেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আপনারা কোনো আশ্বাস পেয়েছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে আব্দুল হক বলেন, মন্ত্রী মহোদয় আমাদের কথা গুরুত্বসহকারে শুনেছেন। এখন উনি ওনার জায়গা থেকে কাজ করবেন।
আরও পড়ুনসংস্কারের পর এপ্রিলেই এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনএফবিসিসিআই পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে ব্যবসায়ীদের অবস্থানদলীয়করণে ব্যবসায়ী সংগঠনে অস্থিরতা, প্রয়োজন সংস্কার
বৈঠকে অংশ নেওয়া এফবিসিসিআইয়ের আরেক সাবেক পরিচালক হাজি মো. আবুল হাশেম জাগো নিউজকে বলেন, বৈঠকে আমরা এফবিসিসিআিই নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছি। এফবিসিসিআিই প্রশাসক দিয়ে চলছে কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে না। এছাড়া কিছু আইন-কানুন নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছি, আমলাদের না দিয়ে, একজন ডাইনামিক ব্যবসায়িক লিডারকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। যদি একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে উনি সাধারণ ব্যবসায়ী যারা আছে সবার সঙ্গে কথা বলে একটা সুন্দর নির্বাচন দিতে পারবেন। একটা সুন্দর নির্বাচন যাতে হয়, এটিই মূল আলোচনা ছিল।
নির্বাচন না চেয়ে প্রশাসক চাওয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আজকে কথা ছিল এটাই, আগে একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক নিয়োগ দেন। তাহলেই নির্বাচন হবে। আরও ২-৫ দেরি হলেও একজন ভালো নেতৃত্ব দিলে নির্বাচনটা হবে। আর সমস্যা রেখে যদি চিন্তা করেন, তাহলে তো আলোচনাই চলতে থাকবে, সময় ক্ষেপণ হবে, সমাধান হবে না। এ জন্য আমরা একজন ব্যবসায়ী প্রশাসক চাচ্ছি।
বৈঠকে আপনারা তো প্রশাসক হিসেবে একজন ব্যবসায়ীর নাম প্রস্তাব করেছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ বৈঠকে অনেকেই ফজলুল হক ভাই (এস এম ফজলুল হক)-এর নাম প্রস্তাব করেছেন। উনি বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআিইয়ের নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কোনো দাবি জানানো হয়নি। নির্বাচনের জন্য কোনো সময়ও উল্লেখ করা হয়নি। ব্যবসায়ীদের মূল দাবি ছিলো একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার।—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা
যোগাযোগ করা হলে বৈঠকে অংশ নেওয়া এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক নাসরিন ফাতেমা আউয়াল জাগো নিউজকে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এফবিসিসিআই নিয়ে কথা হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ে একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন। বৈঠকে আমি মূলত নারীদের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি দল/ছবি: সংগৃহীত
বৈঠকে অংশ নেওয়া আর এক ব্যবসায়ী বলেন, আজকের বৈঠকে মূলত এফবিসিসিআইয়ে একজন ব্যবসায়ী প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের নেতৃত্ব দেওয়া এস এম ফজলুল হককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি তোলেন। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেননি এবং কিছু বলেননি। তিনি ব্যবসায়ীদের কথা শুনেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআিইয়ের নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কোনো দাবি জানানো হয়নি। নির্বাচনের জন্য কোনো সময়ও উল্লেখ করা হয়নি। ব্যবসায়ীদের মূল দাবি ছিলো একজন ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এফবিসিসিআইকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী, কার্যকর ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া কার্যকরভাবে উপস্থাপনে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে এফবিসিসিআইকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি এফবিসিসিআই দেখতে চাই, যা প্রকৃত অর্থেই সব ব্যবসায়ীর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এফবিসিসিআই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে নীতিনির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান করবে।
মন্ত্রী বলেন, সংগঠনটিকে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে যোগ্য, দূরদর্শী ও উদ্যমী নেতৃত্ব অপরিহার্য। এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই আসা উচিত এবং সংগঠনটি যেন ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
এমএএস/এমএমকে