জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ রহিত করার সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে শূন্যতা এবং বিচারাঙ্গনে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। এছাড়া উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা যাচ্ছে নির্বাহী বিভাগের কাছে। এতে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার বিষয়ে জনগণের অর্ধশত বছরের আকাঙ্ক্ষা আপাতত পূরণ হচ্ছে না। অধ্যাদেশ রহিত করায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আইন বিশ্লেষকরা।
Advertisement
তারা বলছেন, সরকার চাইলে অধ্যাদেশ রহিত করেও নতুন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন করতে পারতো। কারণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারক নিয়োগ আইনের বিষয়টি সংবিধানে রয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের রায় রয়েছে।
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরের মাসে সচিবালয়ের উদ্বোধন করা হয়। পৃথক এ সচিবালয়ের জন্য একজন সচিব, ১৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এবং ১৯ জন স্টাফ এরই মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এই কর্মকর্তাদের এখন কী হবে?
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরের মাসে সচিবালয়ের উদ্বোধন করা হয়। পৃথক এ সচিবালয়ের জন্য একজন সচিব, ১৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এবং ১৯ জন স্টাফ এরই মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এই কর্মকর্তাদের এখন কী হবে?
Advertisement
বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ রহিত করা হয়েছে/ফাইল ছবি
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই অধ্যাদেশগুলো আপাতত আইনে পরিণত হচ্ছে না।
আরও পড়ুনসুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদনসুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ কার্যকর হলে যা হবেসুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন‘আপাতত’ চালু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, আইনজীবীরা বলছেন মন্দের ভালো
সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় বিষয়ক অধ্যাদেশ কার্যত বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের নামে স্থগিতের সুপারিশ করায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অধ্যাদেশ তিনটি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
Advertisement
অধ্যাদেশ বাতিলে শূন্যতার সৃষ্টি হবে কি না—এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টা সেরকমই, কিন্তু এখন উনারা যদি এই জিনিসটাকে অন্য কোনোভাবে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু জটিলতা দেখা যাচ্ছে যে, ওই কাজগুলো করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এখন উনারা একটি আইন করে বলতে পারেন যে, অধ্যাদেশ হলো কিন্তু যে কাজ হয়েছে সেটি চলমান থাকবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর এক রিটে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয়ের রায় দেন। সে বিষয়ে তিনি বলেন, ওখানে সচিবালয়ের নির্দেশনা আছে। কাজেই সচিবালয় না থাকলে তো ওইটা আদালতের রায় পরিপন্থী হবে।
‘দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে আমাদের যারা সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন তারা সবাই আন্দোলন করে গেছেন। আমরা কখনো ছাড় দেইনি। প্রত্যেক সরকারই আমাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছে কিন্তু তারা সেটি বাস্তবায়ন করেনি। যে কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিএনপিও চায় না, আওয়ামী লীগও চায় না। আমরা তাদের কাছ থেকে এটা আশা করতে পারি না।’—সুব্রত চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী
অধ্যাদেশ বাতিল হলে বিচার বিভাগ আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কি না এমন প্রশ্নে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সব আগের অবস্থায় চলে যাবে বলাটাও এতো সহজ হচ্ছে না। কারণ হাইকোর্টের একটা রায় আছে। এই রায় তো নির্বাহী বিভাগ মানতে পারতো। কিন্তু আপিলও করে নাই। আবার আপিল করে স্টেও তো নেয় নাই।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন জগো নিউজকে বলেন, জুডিশিয়ারির লাভ হলো কি ক্ষতি হলো এটার আগে একটা জিনিস আপনাদের বুঝতে হবে। তা হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠন করা সংস্কার কমিশনগুলা যে রিপোর্টগুলা সাবমিট করেছে সেগুলো পর্যালোচনা করা উচিত বর্তমান সরকারের।
গত ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ/ফাইল ছবি
মাসদার হোসেন বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার রায়কে ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য এই যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়েছিল এগুলোকে যদি এখন ফেলে দেওয়া হয় তাহলে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হবে না? সচিবালয়ের কাঠামো অনুযায়ী অফিসারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ সব অফিসার এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তো তাদের অবস্থা কী হবে? আর এই আইনটা যদি ফেলে দাও তাহলে কী হবে? বিচারকদের বদলি, পোস্টিং সরকারের ইচ্ছানুযায়ী হবে।
মাসদার হোসেন আরও বলেন, যে আইনগুলো হয়েছে সেগুলোকে এখন বহাল রেখে পার্লামেন্ট যেহেতু চলমান, পরবর্তীতে এটাকে যেখানে যেখানে আপনারা মনে করছেন অসুবিধা আছে সেটা কি অ্যামেন্ড (সংশোধন) করা যেত না? আইনের চরিত্রই হচ্ছে এই—আজকের আইন কালকের জন্য প্রযোজ্য।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে আমাদের যারা সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন তারা সবাই আন্দোলন করে গেছেন। আমরা কখনো ছাড় দেইনি। প্রত্যেক সরকারই আমাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছে কিন্তু তারা সেটি বাস্তবায়ন করেনি। যে কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেছিলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিএনপিও চায় না, আওয়ামী লীগও চায় না। আমরা তাদের কাছ থেকে এটা আশা করতে পারি না।’
তিনি আরও জানান, তারপরও ওয়ান ইলিভেন সরকারের আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যে কিছু কাজ করা হয়েছিল। তারপর আমরা আশা করেছিলাম বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার আলোকে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার মুখ দেখবে। যেমন সর্বশেষ নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, আর্থিক বিষয়টি নিয়ে কোনো এখতিয়ার দেয়নি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রধান বিচারপতিরা নির্দেশনা দিয়েছেন আর সরকার সময় নিয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রয়াত শফিক আহমেদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিচার বিভাগ সংস্কার ও বিচারপতি নিয়োগের আইন করবেন। তিনি বারবার বললেও এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় আলোর মুখ দেখেনি। বাস্তবতা হচ্ছে যারাই ক্ষমতা থাকেন তারাই বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রাখেন। বিরোধী দলে যারা যখন থাকেন তারা এক রকমের কথা বলে, আবার ক্ষমতায় গেলে আরেকরকম কথা বলে। অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় নিয়ে কোনো কাজ করে না।
আরও পড়ুনউচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে হবে কাউন্সিল, অধ্যাদেশ জারিঅন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের প্রতিবেদন সংসদে, বাতিল হচ্ছে ১৬টিসুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতসহ ১২ বিল পাসসংসদে বিরোধীদলের আপত্তি সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ রহিতজ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে সরকার গঠন করা হয়েছিল আমরা সবাই মিলে চেপে ধরেছিলাম যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে পৃথক সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগের আইন করে যান। শেষ পর্যন্ত সরকার কিছুটা নমনীয় হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ উদ্যোগ নিলেন এবং একটি পৃথক সচিবালয় উদ্বোধন করলেন, আর বিচারক নিয়োগের একটি আইন হলো। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটি বাতিল করে দিলো। এখন তারা বলছে, এর চেয়ে ভালোভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কাজ করবেন। এখন দেখার পালা কতটুক কী হয়।
‘সুপ্রিম কোর্টের রায় থাকা অবস্থায় কোনো আইন পাস করে সেই রায়টা অকার্যকর করা হচ্ছে। এটা কিছুটা সাংঘর্ষিক। এই সংঘাত যারা লাগাচ্ছেন তারা আগুন নিয়ে খেলছেন। আগুন নিয়ে খেলা উচিত না। আগুনের সঙ্গে খেলতে গেলে কী হয়—এটা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা শিক্ষা নেবেন, আমরা সবাই শিক্ষা নেব।’—মোহাম্মদ শিশির মনির, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী
সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও জনবল নিয়োগে সরকারের অর্থ অপচয় হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করার পর সেই অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল করায় অর্থ অপচয় হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে আশা করছি সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিলটিকে আবার পূর্ণতা দিতে উত্থাপন করবে। হয়তো আরও ভালো কিছু দেখা যাবে, এই প্রত্যাশা করছি।
গত ১২ মার্চ শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন/ ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করায় অর্থের তেমন ক্ষতি হয়নি। কারণ মন্ত্রণালয়ের জনবল পদায়ন করা হয়েছিল। এখানে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যারা এখানে কর্মে যোগদান করেছিলেন তারা পুনরায় নিজ নিজ স্থানে ফিরে গেছেন। ভবন হিসেবে সুপ্রিম কোর্টকেই ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেটি সেভাবেই রয়েছে। কিছু সরঞ্জাম কেনাসহ অন্যান্য কাজের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। জনবল আনা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে যে রহিতকরণ বিল পাস হচ্ছে, এটা পৃথক আইন। এই আইনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করবেন হাইকোর্টে।
যে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন, সেই রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী শিশির মনির। সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দিয়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
হাইকোর্টের রায় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আইন (রহিতকরণ বিল) সংসদে পাস হয়েছে। এই আইনের গেজেট জোগাড় করবো। রিট আবেদন দায়েরের মাধ্যমে আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণার জন্য আদালতে উপস্থাপন করবো।’
ফাইল ছবি
তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় থাকা অবস্থায় কোনো আইন পাস করে সেই রায়টা অকার্যকর করা হচ্ছে। এটা কিছুটা সাংঘর্ষিক। এই সংঘাত যারা লাগাচ্ছেন তারা আগুন নিয়ে খেলছেন। আগুন নিয়ে খেলা উচিত না। আগুনের সঙ্গে খেলতে গেলে কী হয়—এটা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা শিক্ষা নেবেন, আমরা সবাই শিক্ষা নেব।’
রায়ে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও উদ্বোধন হয়েছে এবং আংশিক কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ‘আজকে অধ্যাদেশটি তারা (সরকার) রহিতকরণ করেছেন। একই সঙ্গে তারা যুক্তি দেখাচ্ছেন, হাইকোর্টের এই রায় আপিলের পরে কার্যকর হবে, আপাতত কার্যকর হবে না। আমরা মনে করি এটিও সঠিক ব্যাখ্যা নয়।’
আরও পড়ুন২ অধ্যাদেশ বাতিল ও আরেকটি স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ-হতাশ টিআইবিআজ বিচার বিভাগের ইতিহাসে কালো দিন: শিশির মনিরবাতিল অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই হবে, বিরোধীদল ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে
আপিল ফাইল করার আগে সচিবালয়ের আইন বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে শিশির মনির বলেন, সরকারের আপিল কি আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেছেন? কিন্তু যে কাজটা করছেন, যেন আপিলে হাইকোর্টের রায় উল্টে গেছে। এটার নাম শক্তি। বিচার বিভাগের সঙ্গে এভাবে শক্তি দেখাতে হয় না।
শিশির মনির আরও বলেন, ‘অতীতে বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পরে এটিকে এভাবে ধ্বংস করা যায়, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়—তার একটি বাস্তব নমুনা আমরা দেখতে পেলাম। দিস ইজ আ প্রিসিডেন্স হুইচ ইজ ব্যাড ইন নেচার (এটি খারাপ প্রকৃতির নজির)। নো বডি শুড অ্যাপ্রিসিয়েট দিজ টাইপ অব অ্যাক্ট বাই দ্য গভর্নমেন্ট (সরকারের এ ধরনের কাজের প্রশংসা করা কারও উচিত হবে না)।’
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী আরও বলেন, হাইকোর্টের রায় এখন পর্যন্ত বলবৎ আছে। সুপ্রিম কোর্টের কোনো স্থগিতাদেশ নেই। চেম্বার আদালতে আবেদন দেওয়া হয়নি। স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন (সিএমপি) দায়ের করা হয়নি।
‘আমরা প্রত্যাশা করবো, সরকার এগুলো থেকে ফিরে আসবে। যে সংগ্রামের ভিত্তিতে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটা এ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল, খামখেয়ালি করে কিংবা জেদের বসে এসব কাজ করা মোটেও সমীচীন হচ্ছে না।’—বলেন শিশির মনির।
এফএইচ/এমএমকে/এমএমএআর