যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের। ‘তুসকা’ কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
Advertisement
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৯ এপ্রিল) বলেন, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জাহাজটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং এটি আটক করাকে ‘সশস্ত্র দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এর জবাবে শিগগির প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দুর্বল যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে নতুন দফা আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছে। প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
Advertisement
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’, অবস্থান পরিবর্তন এবং নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার কারণে তেহরান আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ জানিয়েছেন, কূটনীতিতে তারা পিছিয়ে আসবে না, তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ইরান গ্রহণ না করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি ‘শেষ সুযোগ’।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এরই মধ্যে প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
Advertisement
এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফোনে কথা বলেছেন। এই ফোনালাপে আব্বাস আরাঘচি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
চলমান এই সংঘাত এখন অষ্টম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, যার প্রভাবে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
এমকেএম