তীব্র গরমে অনেকেই লক্ষ্য করেন - সহনশীলতা কমে যাচ্ছে, ছোট বিষয়েও রাগ উঠছে, ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। যানজট, ভিড় বা দৈনন্দিন চাপের মধ্যে এই রাগ যেন আরও দ্রুত বেড়ে যায়।
Advertisement
অনেকেই এটাকে মুড খারাপ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এর পেছনে থাকতে পারে হিট-রিলেটেড অ্যাগ্রেশন - অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে রাগ বা আগ্রাসী আচরণের সম্পর্ক।
হিট-রিলেটেড অ্যাগ্রেশন কী?এটি কোনো আলাদা রোগের নাম নয়, বরং একটি আচরণগত প্রবণতা। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীর ও মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন ঘটে, তা আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় রাগ বা বিরক্তি দ্রুত প্রকাশ পায়।
কেন গরমে রাগ বাড়ে?১. শরীরের অস্বস্তি ও ক্লান্তিগরমে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি কাজ করে। এতে ক্লান্তি বাড়ে, আর ক্লান্ত অবস্থায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়।
Advertisement
২. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতাশরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথা ভার লাগা, বিরক্তি তৈরি হয় ও মনোযোগ কমে যায় - যা রাগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
৩. ঘুমের ঘাটতিগরমের কারণে ঘুমের মান খারাপ হলে পরের দিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে।
৪. মস্তিষ্কের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াউচ্চ তাপমাত্রা শরীরে স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া বাড়ায়। এতে হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয় - যা রাগ বা উত্তেজনার অনুভূতিকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণা যা বলছেবিভিন্ন মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আগ্রাসী আচরণের প্রবণতাও বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, গরমের দিনে সহিংস ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি থাকে। অর্থাৎ, গরম শুধু শরীরেই নয় - আচরণেও প্রভাব ফেলে।
Advertisement
>> শরীর ঠান্ডা রাখুন>> সম্ভব হলে ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন>> হালকা পোশাক পরুন>> পর্যাপ্ত পানি পান করুন, শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মেজাজও তুলনামূলক স্থির থাকে>> ঘুম ঠিক রাখুন, পর্যাপ্ত ঘুম আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে>> রাগের সময় বিরতি নিন>> অস্থির লাগলে কিছুক্ষণ থেমে যান, গভীর শ্বাস নিন।>> নিজের ট্রিগার চিনুন, কোন পরিস্থিতিতে রাগ বাড়ে, তা বুঝে আগেই সতর্ক থাকুন
গরমে রাগ বাড়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। কারণ বারবার রাগ প্রকাশ পেলে তা সম্পর্ক, কাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গরমের সময় শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, সিডিসি
এএমপি/এএসএম