তীব্র দাবদাহে রাজশাহীর লিচু বাগানে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। অতিরিক্ত গরমে গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
Advertisement
কৃষকরা বলছেন, দিনের উচ্চ তাপমাত্রা ও মাটির আর্দ্রতার অভাবে লিচুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কাঁচা ও আধাপাকা লিচু গাছেই ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারজাতের আগেই ফলের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ১৫ এপ্রিল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। পরদিন ১৬ এপ্রিল তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৪.২ ডিগ্রি হলেও আর্দ্রতা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে। ১৭ এপ্রিল তাপমাত্রা আবার বেড়ে ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, আর্দ্রতা ছিল ৪৬ শতাংশ। ১৮ এপ্রিল সকালে আর্দ্রতা হঠাৎ বেড়ে ৯৮ শতাংশে পৌঁছায়, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি। ১৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৫ ডিগ্রি, আর্দ্রতা ৭৭ শতাংশ। তবে এই কয়েকদিনে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাজশাহী জেলায় ৫২৮ হেক্টর বাগানে লিচুর চাষ হয়েছিল। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭৬৮ টন। এক বছরের ব্যবধানে দুই হেক্টর কমেছে লিচু চাষ। জেলায় এবার লিচু চাষ হয়েছে ৫২৬ হেক্টর জমিতে। তবে লিচু চাষের জমি কমলেও উৎপাদন বাড়ার আভাস দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ টন।
Advertisement
এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার হঠাৎ পরিবর্তনে লিচুর খোসা দ্রুত প্রসারিত ও সংকুচিত হয়, ফলে ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার লিচু চাষি আব্দুল মালেক বলেন, কয়েকদিন আগেও প্রচণ্ড গরম ছিল। এখন আবার আর্দ্রতা বেড়েছে। এই কারণে গাছের লিচু ফেটে যাচ্ছে, আমরা খুব চিন্তায় আছি।
গোদাগাড়ীর আরেক কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি নেই, কিন্তু আর্দ্রতা বেশি। গরমের পর হঠাৎ এমন আবহাওয়ায় লিচু টিকছে না। এভাবে আবহাওয়ার অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে রাজশাহীর লিচু উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, লিচু ফাটা রোধে নিয়মিত হালকা সেচ, মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং গাছের পরিচর্যায় বাড়তি নজর দিতে হবে। আমরা কৃষকদের সেই পরামর্শই দিচ্ছি। কৃষকরা এটি করলে লিচু ফাটা থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করছি। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে আম ও লিচু বেশ ভালো অবস্থানে আছে।
Advertisement
এফএ/এমএস