ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিজের রাজনৈতিক পথচলা, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপি নেত্রী সেলিনা সুলতানা নিশিতা।
Advertisement
জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা অভিজ্ঞতা। ছাত্রজীবন থেকেই রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে অসংখ্য প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু প্রতিটি বাধাই আমাকে আরও দৃঢ় করেছে, শিখিয়েছে ধৈর্য, ত্যাগ এবং মানুষের পাশে অটল থাকার শিক্ষা।
সেলিনা সুলতানা বলেন, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা যে রাজনৈতিক দর্শন পেয়েছি, তা শুধু একটি দলীয় দিকনির্দেশনা নয়, এটি একটি সংগ্রামী চেতনা। তার কৌশলগত চিন্তা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলনের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা আমাদের রাজপথকে দিয়েছে নতুন গতি ও শৃঙ্খলা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তার এই প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বের ধারায় অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাকে সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে আরও কার্যকর, বলিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম করবে।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখন শুধু একটি প্রয়োজন নয়, এটি একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। নারীদের কেবল অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে সিদ্ধান্তগ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা জরুরি। আমি বিশেষভাবে তরুণ নারী নেতৃত্বকে প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা এবং বাস্তব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য কাজ করতে চাই।’
Advertisement
আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান সবসময়ই ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা আজ বাস্তবতায় প্রতিফলিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক এবং জনমুখী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলছে। আমি নিজেকে সেই বৃহৎ ভিশনের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে দেখি এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে চাই।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মীদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি একটি ঐতিহাসিক ও শক্তিশালী বার্তা যে রাজনীতিতে ত্যাগ, ধৈর্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। যারা বছরের পর বছর রাজপথে থেকেছে, দুঃসময়ে দলের পতাকা বহন করেছে, তাদের মূল্যায়নই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’
সেলিনা সুলতানা বলেন, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে, এখানে পদ বা অবস্থান উত্তরাধিকার বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং ত্যাগ, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তিনি তৃণমূলের কর্মীদের শক্তিকে শুধু স্বীকৃতিই দেননি, বরং আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তাদের সামনে নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, আমার কাছে এই মনোনয়ন ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বড়, এটি রাজপথের হাজারো নিঃস্বার্থ কর্মীর সম্মান ও স্বীকৃতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি অটুট বার্তা সংগ্রাম করো, ধৈর্য ধরো, দলের প্রতি আস্থা রাখো, একদিন এই ত্যাগই তোমাকে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দেবে।
Advertisement
কেএইচ/এসএনআর/এএসএম