শেয়ারবাজারে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখালেও দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২০) অধিকাংশেরই শেয়ার দাম কমেছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
Advertisement
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে।
আগের দিন দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বড় দাপট দেখানো বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামেও ঢালাও দরপতন হয়। ফলে সার্বিক বাজারে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২০৭টির। আর ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে বিমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৯টির দাম কমেছে এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
Advertisement
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৮টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬১টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫টির দাম বেড়েছে এবং ১০টির দাম কমেছে ও ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮২৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
Advertisement
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২২ লাখ টাকার। ২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- একমি পেস্টিসাইড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ইস্টার্ন ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম, সায়হাম কটন, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড এবং স্যালভো কেমিক্যালস।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯০টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস