পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী লরি চাভেজ-ডিরেমার। তরুণী নারী কর্মীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অভিযোগসহ একাধিক কেলেঙ্কারির মধ্যেই তার এই বিদায় ঘটছে।
Advertisement
তার পদত্যাগের মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটলো। এর আগে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ও অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় নারীদের আসা-যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লরি লিখেছেন, প্রশাসনে আমার দায়িত্ব শেষ হচ্ছে মানে এই নয় যে, আমি আমেরিকান শ্রমিকদের জন্য লড়াই বন্ধ করে দেবো। তিনি আরও জানান, এখন তিনি বেসরকারি খাতে ফিরে যাবেন।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে- তিনি, তার সহযোগীরা ও পরিবারের সদস্যরা নিয়মিতভাবে তরুণ কর্মীদের কাছে ব্যক্তিগত বার্তা ও অনুরোধ পাঠাতেন। আর এর জেরেই লরির পদত্যাগের দাবি ওঠে।
Advertisement
গত সপ্তাহে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ভ্রমণের সময় বিভাগীয় সফরে কর্মীদের কাছে ওয়াইন আনার অনুরোধ জানিয়ে তিনি ও তার সাবেক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ টেক্সট বার্তা পাঠাতেন। এছাড়া তার স্বামী ও বাবাও তরুণ নারী কর্মীদের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করতেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শ্রমমন্ত্রী নিজেই কর্মীদের ওই ব্যক্তিদের প্রতি ‘মনোযোগ দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই বার্তাগুলো তার নেতৃত্ব নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। এতে অনেক কর্মী তাকে বিভাগের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে বর্ণনা করেছেন।
এই তদন্তের ফল হিসেবে তার টিমের চারজন সদস্যকে পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এর মধ্যে রয়েছেন তার সাবেক চিফ অব স্টাফ, ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, অ্যাডভান্স ডিরেক্টর ও তার নিরাপত্তা দলের এক সদস্য, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ ছিল।
এছাড়া তিনজন কর্মী একটি বৈরী কর্মপরিবেশের অভিযোগ তুলে নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
Advertisement
২০২৫ সালের এপ্রিলের একটি বার্তা বিনিময়ে তার বাবা রিচার্ড চাভেজ এক তরুণী কর্মীকে লেখেন, শুনেছি তুমি শহরে আছো। যদি জানাতে, আমি বের হওয়ার অজুহাত খুঁজে তোমাকে ঘুরিয়ে দেখাতে পারতাম। দয়া করে এই বার্তাটি ব্যক্তিগত রাখবে।
অন্যদিকে তার স্বামী শন ডিরেমারের বিরুদ্ধে দুজন তরুণ নারী কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, গত বছরের শেষ দিকে শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে কাজ করার সময় তিনি তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন স্পর্শ করেছিলেন।
পদত্যাগের ঘোষণায় নিজের এক্স পোস্টে নিজের স্বামী ও বাবাকে নিয়ে এসব বিতর্ক সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি লরি। তবে স্বামী ও বাবাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে তার ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
জানা গেছে, লরির ডেপুটি কিথ শনডারলিং এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত শ্রমমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে স্থায়ীভাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ