খুলনা সদর থানাধীন নিরালা আবাসিক এলাকায় খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির (এনডাব্লিউই) একজন শিক্ষার্থী গামছা দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম উৎস রায় (২৫)। তবে পুলিশ আত্মহত্যার কারণ নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলতে পারেনি।
Advertisement
এদিকে জাগো নিউজের হাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর উৎস রায়ের একটি আবেদনে দেখা যায়, টিউশন ফি এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার টার দিকে নিরালার ৭ নম্বর রোডের এফ-৮৫ নম্বর একটি ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত উৎস রায় (২৫) খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্প্রিং-২২ এর সিএসই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের কনক কান্তি রায়ের ছেলে। তার বাবা একজন শিক্ষক।
Advertisement
নিহতের মামা কৌসিক রায় জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে উৎস বকেয়া ফি ৩৫ হাজার টাকার কথা বলেছিল। আপাতত ১০ হাজার দিলে হবে বলেও জানায় সে। তার বাবা বলেছিলেন, সকালে বাজারে গিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেবেন। কিন্তু তার আগেই ও এমনটা করে বসলো। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, উৎসের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭২ হাজার টাকা টিউশন ফি বকেয়া ছিল। তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি আবেদন করেছিলেন। যেখানে এক মাসের মধ্যে ফি পরিশোধের সময় চেয়ে অনুরোধ জানায় কর্তৃপক্ষকে। আবেদনটি সোমবার (২০ এপ্রিল) তার সিএসই বিভাগের হেড অব ডিপার্টমেন্ট মেহেদী হাসান গ্রহণ করেন। তবে আবেদনটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, আবেদনের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আড়াআড়ি একটি দাগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
Advertisement
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
আরিফুর রহমান/এমএন