তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারী ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ করে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রান্না করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
Advertisement
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্রে অবস্থানরত একটি এফএসআরইউ ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়।
তিতাস গ্যাসের সূত্র জানায়, তাদের গ্রাহকদের দিনে মোট চাহিদা ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। সেখানে তিতাস দিনে ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পায়। এমনিতেই দিনে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশী ঘাটতি থাকে। এফএসআরইউ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমেছে। এতে গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা এলাকায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় চুলায় আগুন জ্বলছে না, কোথাও বা খুবই কম চাপ থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
Advertisement
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, সকালে থেকে গ্যাস নেই। বাচ্চাদের জন্য নাস্তা বানাতে পারিনি। দুপুর হয়ে গেলেও একই অবস্থা, কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা সেঁজুতি বলেন, বাসায় গ্যাস নেই। সকাল থেকে হঠাৎ এই অবস্থা হয়েছে। কখন গ্যাস পাবো জানি না। গ্যাস না আসলে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হবে।
বাড্ডার বাসিন্দা নিলীমা ইতি বলেন, সবসময়ই গ্যাস কম পাই। মাঝে মধ্যে পাই আবার পাই না। মিটমিট করে চুলা জ্বলছে। আজ গ্যাসের অবস্থা আরও খারাপ। কখন ঠিক হবে আর রান্না করবো কখন বুঝছি না।
দেশে গ্যাসের চাহিদার বড় একটি অংশ এখন এলএনজি নির্ভর হওয়ায় এ ধরনের একটি ইউনিটে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে বিকল্প উৎস বা পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় সংকট দ্রুত প্রকট হয়ে ওঠে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Advertisement
এনএস/এমআইএইচএস