ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার একটি অসহায় পরিবারের এখন প্রতিটি দিন কাটছে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায়। দেড় বছর বয়সি শিশু তামজিদ হাসান তাকরীম লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন মা-বাবা।
Advertisement
নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কুচুরী গ্রামের দিনমজুর আজিজুল হক ও গৃহপরিচারিকা শোভা আক্তারের একমাত্র সন্তান তামজিদ ‘বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া’ নামক বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত। এ রোগে পিত্তনালী বন্ধ হয়ে ধীরে ধীরে লিভার বিকল হয়ে যায়। এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা করানো হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, তাকে বাঁচাতে দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
কিশোরগঞ্জের ডিজিল্যাব হেলথ সেন্টারের হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদুর রহমান ভূঞা বলেন, শিশুটি অত্যন্ত জটিল অবস্থায় রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সময় যেমন সীমিত, তেমনি ব্যয়ও অত্যন্ত বেশি।
এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকা। যা এই দরিদ্র পরিবারের জন্য একেবারেই অসম্ভব। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে এরই মধ্যে তারা ভিটেমাটি ছাড়া প্রায় সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন। ধার-দেনা করে ব্যয় করেছেন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসার পথ। প্রতিটি দিন যেন তামজিদের জীবন থেকে একটু একটু করে সময় কেড়ে নিচ্ছে।
Advertisement
শিশুটির মা শোভা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বুকটা ফেটে যায়। আমার একমাত্র ছেলেটা চোখের সামনে এভাবে চলে যাবে। আমি এটা মেনে নিতে পারছি না। আপনারা দয়া করে আমার ছেলেটাকে বাঁচান। আমি সবার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার কোল খালি হতে দিয়েন না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা রয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব।
নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা বলেন, বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া অত্যন্ত জটিল রোগ এবং এ ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপনই একমাত্র সমাধান, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, সরকারি সহায়তার সুযোগগুলো দেওয়া হবে। তবে শিশুটির জীবন বাঁচাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
Advertisement
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সীমিত অনুদান পাওয়া গেলেও তা এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের সহযোগিতাই এখন তামজিদের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা।
সমাজের বিত্তবান মানুষের একটু সহানুভূতি, সহায়তাই হয়ত ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর হাসি, বাঁচাতে পারে একটি মায়ের বুকভরা স্বপ্ন।
এসকে রাসেল/এফএ/এএসএম